জনতার রায়কে প্রাধান্য না দিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) জানিয়েছিলেন, চক্রান্ত হয়েছে, তিনি হারেননি। তাই মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। বাধ্য হয়েই মেয়াদ শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিধানসভা ভঙ্গের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। অর্থাৎ এই মুহূর্তে আর মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে, তাঁর বায়োতে লেখা 'মুখ্যমন্ত্রী'। অর্থাৎ রাজ্যপালের নির্দেশ সত্ত্বেও 'চেয়ার' ছাড়তে নারাজ তৃণমূল নেত্রী।
বাংলা এর আগেও পালাবদল দেখেছে। শেষ রাজ্যের দায়িত্ব বদল হয়েছিল ২০১১ সালে। ৩৪ বছরের বাম সাম্রাজ্য়কে উপড়ে রাজ্যের দায়িত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাতে তুলে দিয়েছিল আমজনতা। সেই রায় মাথা পেতে মেনে নিয়েছিলেন তৎকালীন সরকারের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। ফলাফল স্পষ্ট হতেই কোনও অভিযোগ ছাড়াই ইস্তফাপত্র নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন রাজ্যপালের কাছে। তারপর বেশ কিছুদিন একান্তযাপন করে আমজনতার সামনে দাঁড়িয়ে মেনে নিয়েছিলেন, ভুল ছিল তাই মানুষ তাঁদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ভোট বাক্সে। এরপর ২০২৬। ফের রাজ্যে পালাবদল। তৃণমূলকে সরিয়ে এবার বিজেপিকে ক্ষমতায় এনেছে বাংলার মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই মুখ্যমন্ত্রী ইস্তফা দেওয়ার কথা ছিল মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের। কিন্তু তিনি তা করেননি। বরং সাফ জানিয়েছিলেন, হারেননি তাই ইস্তফা দেবেন না।
তা নিয়ে বিতর্ক কম হয়নি। একজন মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। কিন্তু তাতেও অবস্থান থেকে সরেননি মমতা। বরং তিনি বলেছিলেন, "রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক, ইস্তফা দেব না।" ৭ মে পর্যন্ত ছিল তৃতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মেয়াদ। সময় ফুরোতেই বৃহস্পতিবার নিয়ম মেনে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার (Bengal Assembly Dissolved) বিজ্ঞপ্তি জারি করেন রাজ্যপাল আর এন রবি। কিন্তু তাতেও অবস্থানে অনড় মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। পদচ্যুত হওয়ার পরও সোশাল মিডিয়ায় বায়োতে কোনও বদল করেননি তিনি। অর্থাৎ সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম অনুযায়ী, এখনও মুখ্যমন্ত্রী তিনিই!
