shono
Advertisement
Dilip Ghosh

এলেন, দেখলেন, জয় করলেন, 'দাবাং' কামব্যাকে ফের 'ফার্স্ট বয়' দিলীপ

চব্বিশের লোকসভা দিলীপের জন্য বয়ে আনে পরাজয়ের যন্ত্রণা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন যেন ক্ষতে প্রলেপের মতো। বিরোধীদের কুপোকাত করে খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী 'দাবাং' নেতা। 
Published By: Sayani SenPosted: 08:51 PM May 04, 2026Updated: 09:50 PM May 04, 2026

তিনি মর্নিং ওয়াকে বেরলেই নাকি বিজেপির দু'জন অনুগামী বেড়ে যায়। বঙ্গ বিজেপিতে এ প্রাচীন প্রবাদ। স্পষ্টবক্তা, খানিকটা ঠোঁটকাটাই বলা যায়। তবে তাঁর কথাবার্তা, চালচলনে যা সবথেকে স্পষ্ট, তা হল লড়াই। রাজনীতির জমিতে তিনি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে লড়তে জানেন। ২০১৯-এ বাংলার প্রায় প্রতিকূল মাটিতেও তিনি পদ্ম ফুটিয়েছিলেন। ১৮টি আসন পেয়ে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বিজেপিকে তীব্রভাবে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছিলেন। ২০১৬ সালে বঙ্গে ৩ থেকে একুশে ৭৭টি পদ্ম ফোটানোর নেপথ্যেও অক্লান্ত পরিশ্রম ছিল এই নেতারই। অথচ চব্বিশের লোকসভা তাঁর জন্য বয়ে আনে পরাজয়ের যন্ত্রণা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন যেন ক্ষতে প্রলেপের মতো। বিরোধীদের কুপোকাত করে খড়্গপুর সদর থেকে জয়ী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। 

Advertisement

দিলীপ 'ঘনিষ্ঠ' শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপি সভাপতি হওয়ার পর দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বদলে যায়। ফের দলের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচে। অনেকেই বলেন, তারপর থেকে নাকি দলে তাঁর গুরুত্ব বাড়ে। সেই সময় তিনি নিজেই দাবি করেন, ভোটে লড়তে হলে প্রথম পছন্দ খড়্গপুর সদর।

চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষের পরাজয় যেন প্রত্যাশিতই ছিল। সেবার কেন্দ্র বদল হয়েছিল তাঁর। হারের পর দলের বিরুদ্ধে চাপা হতাশা প্রকাশ করেছিলেন 'দাবাং' দিলীপ। বেড়েছিল দূরত্ব। দীর্ঘদিন কোনও দলীয় অনুষ্ঠানেও ডাক পাননি তিনি। শিরোনামে থাকা আদি-নব্যদের মধ্য়ে কার্যত একঘরে হয়েছিল দিলীপের নাম। এখানেই শেষ নয়, বিয়ের পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে যাওয়ায় তাঁর দলবদলের জল্পনাও উসকে গিয়েছি। তবে কোনও পরিস্থিতিতেই মনোবল হারাননি। কেননা তিনি চিরকালের ‘লড়াকু’। এদিকে আবার শোনা যায়, দিলীপ 'ঘনিষ্ঠ' শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপি সভাপতি হওয়ার পর দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ বদলে যায়। ফের দলের সঙ্গে দূরত্ব ঘোচে। অনেকেই বলেন, তারপর থেকে নাকি দলে তাঁর গুরুত্ব বাড়ে। সেই সময় তিনি নিজেই দাবি করেন, ভোটে লড়তে হলে প্রথম পছন্দ খড়্গপুর সদর।

চব্বিশের হার, ছাব্বিশে বিপুল জয় দিলীপের। ছবি: ফেসবুক

প্রার্থী নির্বাচনের সময় নানা কাটাছেঁড়ার পর দিলীপ ঘোষকে (Dilip Ghosh) খড়্গপুর সদর থেকেই ভোটে লড়ার সুযোগ দেওয়া হয়। দলের নির্দেশমতো নিজের চেনা মাটিতে ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে নামেন দিলীপ। দিনভর প্রচার, জনসংযোগ করে গিয়েছেন। ছায়াসঙ্গীর মতো পাশে পেয়েছেন স্ত্রী রিঙ্কুকে। ছাব্বিশের ভোটের আগে থেকেই জয়ের বিষয়ে একশো শতাংশ আশাবাদী ছিলেন তিনি। আর হলও তাই। সোমবার ভোটগণনার শুরু থেকেই একেবার 'ফার্স্ট বয়' দিলীপ। পোস্টাল ব্যালট গণনার সময়েও এগিয়ে ছিলেন তিনি। ইভিএমে তাঁকে পিছনে ফেলতে পারেননি কেউ। দাবাং নেতা প্রতিপদে যেন বুঝিয়ে দিয়েছেন, দল তাঁকে যে দায়িত্ব দেবেন, বাধ্য ছাত্রের মতো তিনি তাতেই এনে দেবেন সাফল্য। বিরোধীদের মুখের হাসি ম্লান করে আগামী পাঁচ বছরের জন্য ফের খড়্গপুর সদরে বহাল দিলীপ 'রাজ'ই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement