'পবিত্র' হল না নন্দীগ্রামের (Nandigram) মাটি। ছাব্বিশের ভোটেও ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীতেই (Suvendu Adhikari) আস্থা রাখলেন পূর্ব মেদিনীপুরের সংগ্রামী মানুষজন। একদা 'বন্ধু' তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র করকে ৯ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। প্রমাণ করেছেন, নন্দীগ্রামের যে মাটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) মুখ্যমন্ত্রিত্ব তুলে দিয়েছিল ২০১১ সালে, সেই মাটি কখনও যোগ্য নেতাকে চিনে নিতে ভুল করে না। তাই বিজেপির অনুকরণে হিন্দুত্বের জিগির তোলা পবিত্র করকে তাই প্রত্যাখ্যান করেছে নন্দীগ্রাম।
নন্দীগ্রামে প্রচারে শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: ফেসবুক
একুশের ভোটে নন্দীগ্রামের লড়াই ছিল একরকম। সেখানে সেবার শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিপক্ষ ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর জয় নিয়ে কিছু বা বিতর্ক উঠেছিল, ছাব্বিশে সেই বিতর্কের আর কোনও অবকাশ নেই। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর ১৯ রাউন্ড শেষে শুভেন্দু অধিকারীকে ৯৬৬৫ ভোটে জয়ী ঘোষণা করা হয়। আর দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেন। এখনও পর্যন্ত একটি নির্বাচনেও হারের মুখ দেখতে হয়নি তাঁকে। সেইসঙ্গে এবারের ভোটে (West Bengal Assembly Election) রাজ্যকে পদ্মাসনে বসানোর কৃতিত্বও শুভেন্দু অধিকারীর।
নন্দীগ্রামে এবার একটু অন্য হাওয়া ছিল। তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার দিন, কয়েকঘণ্টা আগে শুভেন্দুর 'ডানহাত' পবিত্র করকে দলে টেনে চমক দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তাঁকে নন্দীগ্রামের ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী করে সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর করানোই ছিল লক্ষ্য। পবিত্রও সেখানে ঘরে ঘরে প্রচার করে, নিজস্ব জনভিত্তিকে সম্বল করে লড়াইয়ে বেশ ভালো বেগ দিয়েছিলেন। জয় নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না তাঁর। এমনকী ঘনিষ্ঠ মহলে খবর, ফলপ্রকাশের আগের রাতেও পবিত্রবাবু জিতবেন বলেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
কিন্তু নন্দীগ্রামে এবার একটু অন্য হাওয়া ছিল। তৃণমূলের প্রার্থী ঘোষণার দিন, কয়েকঘণ্টা আগে শুভেন্দুর 'ডানহাত' পবিত্র করকে দলে টেনে চমক দিয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তাঁকে নন্দীগ্রামের ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থী করে সেয়ানে-সেয়ানে টক্কর করানোই ছিল লক্ষ্য। পবিত্রও সেখানে ঘরে ঘরে প্রচার করে, নিজস্ব জনভিত্তিকে সম্বল করে লড়াইয়ে বেশ ভালো বেগ দিয়েছিলেন। জয় নিয়ে কোনও সংশয় ছিল না তাঁর। এমনকী ঘনিষ্ঠ মহলে খবর, ফলপ্রকাশের আগের রাতেও পবিত্রবাবু জিতবেন বলেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন।
অভিষেকের হাত ধরে তৃণমূলে পবিত্র। ফাইল ছবি।
কিন্তু সোমবার গণনা শুরু সঙ্গে সঙ্গে দেখা যায়, গোড়া থেকে পিছিয়ে তৃণমূল প্রার্থী। শেষমেশ ৯৬৬৫ ভোটে জিতলেন বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীই। পরাজয় স্বীকার করে পবিত্র বলেন, ''তখন পরিস্থিতি অন্য ছিল। তাই জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কেন হারলাম, তা বুঝে দেখতে হবে।'' এরপর কি ফের শুভেন্দুর সঙ্গে হাত মেলাবেন? এর জবাবে পবিত্রবাবুর সংক্ষিপ্ত জবাব, কোনও মন্তব্য নয়। শুভেন্দু-পবিত্র ফের মিলেমিশে নন্দীগ্রামে রাজনীতি করবেন নাকি একই মাটিতে যুযুধান প্রতিপক্ষ হয়ে থাকবেন, তা তো সময়ই বলবে। আজকের ফলাফল কিন্তু বলে দিল, শুভেন্দুর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে নন্দীগ্রামের ভূমি 'পবিত্র' করার পণ নেওয়াটা তাঁর পক্ষে একটু বেশিই ঝুঁকি হয়ে গিয়েছিল।
