ভোট গণনাকেন্দ্রের বাইরে দ্বিস্তরীয় নিরাপত্তা। গণনা চলাকালীন বা তার শেষে কোনও অশান্তি এড়াতে সোমবার শহরের রাস্তায় নামছে অতিরিক্ত তিন হাজার পুলিশ। থাকছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার পুলিশকর্তারাও। গণনা শেষ হওয়ার পরই ফের পুলিশকে নিয়ে সারা শহরজুড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দেবে বলেই খবর।
লালবাজারের সূত্র জানিয়েছে, সোমবার সকাল থেকেই কলকাতায় আটটি কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে। সেগুলি হচ্ছে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, আলিপুরের হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্স, যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ, আলিপুরের জাজেস কোর্ট রোডের বিহারীলাল কলেজ, ডায়মন্ড হারবারবার রোডের সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুল, লর্ড সিনহা রোডের সাখোয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল, বেলতলা রোডের বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল ও বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি।
প্রত্যেকটি গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকছে। ভিতরে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ আধিকারিক ও সশস্ত্র পুলিশ কনস্টেবল। গণনাকেন্দ্রের বাইরেও থাকছে যথেষ্ট নিরাপত্তা। কেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে কোনও সমর্থককে ঢুকতে দেওয়া হবে না। একাধিক রাজনৈতিক দলের সমর্থক কেন্দ্রের বাইরে উপস্থিত থাকবেন। তাঁদের মধ্যে যেন তফাৎ থাকে, সেদিকে নজর থাকবে পুলিশের।
গণনাকেন্দ্রগুলির বাইরের গেট থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত থাকবে প্রথম স্তরের নিরাপত্তা। এরপর থাকবে দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তা। ভোটের ফল ঘোষণার মধ্যেই যাতে রাজনৈতিক দলের সমর্থকরা কোনও অশান্তি করতে না পারে, সেদিকে কড়া নজর থাকছে পুলিশের। ভোটে প্রার্থী জেতার পর যে রাস্তাগুলি দিয়ে বিজয় মিছিল বের হবে, সেদিকও নজর দেবে পুলিশ। প্রত্যেকটি মিছিলের সঙ্গে যাতে পুলিশ থাকে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মিছিলে থাকা কোনও সমর্থক যাতে কোনও এলাকায় গোলমাল না করে অথবা মিছিলের উপর যাতে কোনও হামলা না হয়, পুলিশের পক্ষে সেই ব্যাপারে নজর দেওয়া হচ্ছে। কোথাও কোনও গোলমাল বা অশান্তির খবর পেলে সেখানে হাজির হতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী। রবিবার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা ও লালবাজারের পুলিশকর্তারা গণনাকেন্দ্রগুলি পরিদর্শন করেন। এদিন লালবাজারে ভোট গণনা নিয়ে পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন পুলিশ কমিশনার। ভোট পরবর্তী অশান্ত রুখতে কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকে সবরকমের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালবাজারের কর্তারা।
পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, কলকাতায় ভোট পরবর্তী হিংসা ও অশান্তির উপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই ভোট শেষ হয়ে যাওয়ার পরও প্রায় ২০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে শহরে। বিগত কয়েকটি ভোটের পর কলকাতার যে অঞ্চলগুলিতে গোলমাল বা হিংসার ঘটনা ঘটেছিল, সেগুলি আগেই পুলিশ চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়াও গত কয়েকদিনের মধ্যে শহরের যে জায়গাগুলিতে গোলমাল হয়েছে অথবা ভোটের দিনও যে অঞ্চলগুলিতে অশান্তি হয়েছে বলে খবর, সেই অঞ্চলগুলিতে পুলিশ টহল দেবে। ওই অঞ্চলগুলিতে কেন্দ্রীয় বাহিনীও রুট মার্চ করতে পারে। এ ছাড়াও প্রয়োজনে ড্রোনের মাধ্যমেও নজরদারি চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
