এবার ভোটগণনা তুলনামূলক ধীরগতিতে হবে বলে আগে থেকেই জল্পনা দানা বাঁধে। সোমবার ভোটগণনার একেবারে প্রথম দফায় এমনই দাবি করছেন অনেকে। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তাঁর দাবি, "স্লো ট্রেন্ডিং হবে, তা এখনই বলা যাবে না। রিটার্নিং অফিসারেরা যত টেবিল চেয়েছিলেন, তত টেবিলই দেওয়া হয়েছে।"
ভোটগণনার (West Bengal Election Result 2026) শুরুতে বিভিন্ন জায়গায় কাউন্টিং এজেন্টরা ঢুকতে পারেননি বলেই অভিযোগ ওঠে। কলকাতা থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনা ছড়ায়। তা নিয়েও এদিন মুখ খোলেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। তিনি বলেন, "রিপোর্ট আমরা সব জায়গা থেকে পাচ্ছি। সমস্ত কাউন্টিং হল থেকে পাচ্ছি। কঠোরভাবে দেখা হচ্ছে। তাই কোনও কোনও জায়গায় কাউন্টিং এজেন্টদের ঢুকতে সময় লাগছে।"
এদিকে, ভোটগণনার আগের রাত থেকেই একাধিক স্ট্রংরুমে সিসিটিভি বন্ধ থাকার অভিযোগ উঠেছে। খোদ তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার গভীর রাতে এই প্রসঙ্গে সোশাল মিডিয়ায় সরব হন। সকলকে সজাগ থাকার কথা বলেন। স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার কথা বলেন। কারচুপির অভিযোগে সুর চড়ান। সোমবার এই অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক। তিনি বলেন, "ক্যামেরা হয়তো যান্ত্রিক কারণে চালু হতে দেরি হয়েছে। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই রিটার্নিং অফিসার গিয়ে চালু করেছেন।"
বলে রাখা ভালো, রাজ্যের ৭৭টি কেন্দ্রে চলছে ভোটগণনা। কলকাতায় আটটি কেন্দ্রে ভোট গণনা চলছে। সেগুলি হল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম, আলিপুরের হেস্টিংস হাউস কমপ্লেক্স, যাদবপুরের এপিসি রায় পলিটেকনিক কলেজ, আলিপুরের জাজেস কোর্ট রোডের বিহারীলাল কলেজ, ডায়মন্ড হারবারবার রোডের সেন্ট থমাস বয়েজ স্কুল, লর্ড সিনহা রোডের সাখোয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল, বেলতলা রোডের বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট হাই স্কুল ও বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের বাবা সাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটি। প্রত্যেকটি গণনাকেন্দ্রের ভিতরে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা। গণনাকেন্দ্রগুলির বাইরের গেট থেকে ২০০ মিটার পর্যন্ত প্রথম স্তরের নিরাপত্তা। এরপর দ্বিতীয় স্তরের নিরাপত্তা। ভিতরে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ আধিকারিক ও সশস্ত্র পুলিশ কনস্টেবল।
