গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকেই সময়টা ভালো যাচ্ছিল না বরুণ চক্রবর্তীর। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের কাছে বারবারই ধরা পড়ে যাচ্ছিলেন। বিশ্বকাপ শেষে আইপিএল শুরু হয়েছে। তবে মঞ্চ বদল হলেও পরিবর্তন হয়নি বরুণের পারফরম্যান্সে। মিস্ট্রি স্পিনারের যাবতীয় রহস্য-মেঘ যেন উড়ে গিয়েছিল ব্যাটারদের দাপটে।
অবশ্য সেই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ভেঙে পড়েননি বরুণ। বরং ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেছেন। তিনি জানতেন, সময় বদলাবে। তারুণ্যের তেজ কমবে উইকেটের। ইচ্ছেমতো শট খেলতে পারবেন না ব্যাটাররা। ফের দেখা যাবে স্পিনের ভেলকি। আর হয়েছেও তাই। প্রথম তিন ম্যাচে উইকেট না পাওয়া বরুণ শেষ চার ম্যাচে করেছেন দশ শিকার। যারমধ্যে দু’টোয় ম্যাচের সেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। যার দ্বিতীয়টা বরুণ পেলেন রবিবাসরীয় হায়দরাবাদে, সানরাইজার্স ম্যাচ তিন উইকেট নেওয়ার জন্য। ম্যাচ শেষে নাইট স্পিনার শোনাচ্ছিলেন ধৈর্য ধরে অপেক্ষার কথা। “আইপিএলে প্রতি বছরই শুরুর চারটে ম্যাচে উইকেট তরতাজা থাকে। প্রচুর রান ওঠে। শুরুর সময়টা সব স্পিনারের জন্যই কঠিন। তারপর আবার স্পিনাররা ছন্দে ফেরে।”
ট্রাভিস হেডকে আউট করে কেকেআর-কে ম্যাচে ফেরান বরুণ। অস্ট্রেলীয় ওপেনারের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা সাজিয়েই নেমেছিলেন নাইট তারকা। শোনালেন, “হেড বেশ হাত খুলে মারছিল। আমি ওকে মারার সুযোগ দিতে চাইনি। সেটাই ছিল পরিকল্পনা।” হেডের শট ঠেকাতে গিয়ে পায়ে লাগে বরুণের। ম্যাচের শেষেও অস্বস্তি ছিল তাঁর হাঁটাচলায়। তবে বরুণের বার্তা, শুক্রবারের দিল্লি ক্যাপিটালস ম্যাচের আগে ফিট হয়ে যাবেন তিনি। বরুণের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সতীর্থরাও। অঙ্গকৃষ রঘুবংশী যেমন। তাঁর ৫৯ রানের ইনিংস কেকেআরের জয়ের অন্যতম অনুঘটক।
ম্যাচ শেষে তরুণ নাইট বলে দিয়েছেন, “শুরুর সময়টা বরুণের জন্য কঠিন ছিল। তবে ওর ক্ষমতা নিয়ে আমাদের কোনও সন্দেহ ছিল না। ছন্দে থাকলে ওর সামনে দাঁড়ানোর ক্ষমতা কোনও ব্যাটারের নেই। বরুণ এতটাই ভালো।” অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানেও বলছিলেন, “বরুণের জন্য ভালো লাগছে। প্রতিযোগিতার আগে থেকে কঠিন সময়ের মধ্যে ছিল। তারপর অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ও সবসময় আত্মবিশ্বাসী ছিল। পরিশ্রম করেছে। দলের কঠিন সময়ে এমন প্লেয়ারের উপরেই সবাই ভরসা রাখে। চাপের মুখে ও বল করে। আশা করছি বরুণের এই ফর্ম অব্যাহত থাকবে।” সত্যি, বরুণের ভেলকি অব্যহত থাকলে পরিস্থিতি যে কেকেআরের অনুকুলে থাকবে, বলাই বাহুল্য।
