দক্ষিণ ভারতের সুপারস্টার থলপতি বিজয় এখন শুধু বড় পর্দার নায়ক নন, রাজনীতির ময়দানেও তিনি আলোচনার কেন্দ্রে। তাঁর দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগম (টিভিকে) ক্ষমতার দৌড়ে জোর চর্চায়, প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই চমক। তবে এই রাজনৈতিক উত্থানের মাঝেও তাঁর ব্যক্তিগত শৃঙ্খলা ও ফিটনেস সমানভাবে নজর কাড়ছে।
অভিনয়, জনসংযোগ, রাজনৈতিক ব্যস্ততা- সব সামলেও কীভাবে তিনি নিজেকে এতটা ফিট রাখেন, সেটাই আজ অনেকের কাছে অনুপ্রেরণা। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর ফিট থাকার রহস্য কোনও কঠিন ডায়েট বা চটকদার ট্রেন্ড নয়, বরং সহজ, নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলিত জীবনযাপন।
থলপতি বিজয়। ফিট থাকার আসল মন্ত্র শৃঙ্খলা। ছবি: সংগৃহীত
সহজ ওয়ার্কআউট
বিজয়ের দিন শুরু হয় হালকা কার্ডিও দিয়ে। দ্রুত হাঁটা বা অল্প দৌড়, যা চলে ১০ থেকে ৪০ মিনিট পর্যন্ত। এতে হৃদ্যন্ত্র সুস্থ থাকে, স্ট্যামিনা বাড়ে এবং শরীর সারাদিন চনমনে থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ধরনের কার্ডিও মেটাবলিজম ঠিক রাখতে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
এরপর তিনি করেন স্ট্রেংথ ট্রেনিং, লক্ষ্য পেশী বা শরীর ফোলানো নয়। বরং তিনি গুরুত্ব দেন ফাংশনাল ফিটনেসে। যাতে শরীর শক্তিশালী, নমনীয় এবং ভারসাম্যপূর্ণ থাকে। মাঝারি ওজন নিয়ে বেশি রিপিটেশন করার ফলে ইনজুরির ঝুঁকি কমে এবং সহনশীলতাও বাড়ে।
ফিটনেসের মূলমন্ত্র: সহজ, নিরাপদ, নিয়মিত
বিজয়ের ফিটনেস দর্শন একেবারেই বাস্তবসম্মত। তিনি অতিরিক্ত চাপ নেন না, অবাস্তব লক্ষ্য তাড়া করেন না। বরং তাঁর বিশ্বাস, ছোট ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। যেদিন জিমে যাওয়া সম্ভব হয় না, সেদিনও থেমে থাকে না তাঁর শরীরচর্চা। হাঁটা, স্ট্রেচিং বা দৈনন্দিন কাজের মধ্যেই নিজেকে ব্যস্ত রাখেন। এতে প্রমাণ হয়, ফিট থাকতে গেলে জিম নয়, যে কোনও উপায় শরীরকে সচল রাখাটাই আসল।
ছবি: সংগৃহীত
ডায়েটে নেই কোনও বাড়াবাড়ি
খাবারের ক্ষেত্রে বিজয় বেছে নেন ঘরোয়া, পুষ্টিকর খাবার। দিনের শুরুতে থাকে ইডলি, ডিম, ফল, পিনাট বাটার ও ডাবের জল, যা শরীরকে দেয় প্রয়োজনীয় শক্তি ও পুষ্টি। দুপুরে তিনি খান ভাত, সবজি এবং প্রোটিন (মুরগির মাংস বা মাছ)। রাতে থাকে হালকা খাবার। স্যুপ, স্যালাড বা সহজপাচ্য কিছু। এই অভ্যাসে হজম হয় ভালো। ফলে শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হয় না।
ঐতিহ্য আর পুষ্টির মেলবন্ধন
বিজয়ের লাইফস্টাইলের অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হল, তিনি আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ ভারতীয় খাবারের সুন্দর সমন্বয় ঘটিয়েছেন। প্রিয় খাবার খেয়েও কীভাবে ফিট থাকা যায়, সেটাই তিনি দেখিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলেন এবং পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখেন। ডাবের জল, ফল ও সবজি তাঁর ডায়েটে নিয়মিত, যা শরীরকে হাইড্রেট রাখে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
৫০-এও ফিট। ছবি: সংগৃহীত
জিমের বাইরেও ফিটনেস
ব্যস্ত শুটিং বা রাজনৈতিক কাজের মাঝেও বিজয় শরীরচর্চা থামান না। তিনি হাঁটা, স্ট্রেচিং বা ছোটখাটো শারীরিক কাজের মাধ্যমে নিজেকে সক্রিয় রাখেন। এই ধারাবাহিকতাই তাঁকে ফিট থাকতে সাহায্য করে।
আসল রহস্য: মানসিকতা ও শৃঙ্খলা
বিজয়ের ফিটনেসের আসল চাবিকাঠি তাঁর মানসিকতা। নিয়ম মেনে চলা, ডায়েট ও ফিটনেসের অভ্যাসকে বজায় রাখা। ঠিক এই কারণেই তাঁর ফিটনেস শুধু বাহ্যিক নয়, এটি একটি জীবনদর্শন। অভিনয় থেকে রাজনীতি, সব জায়গায় তাঁর এই শৃঙ্খলা, ভারসাম্য এবং ধারাবাহিকতাই তাঁকে আলাদা করে তোলে।
