যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে এক ছাত্রকে চাপা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতবছর উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ-বিক্ষোভে শামিল হয়েছিল বাম ছাত্রসংগঠনগুলি। ছাত্র ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছিল। ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়। চার এআইডিএসও নেত্রীকে গ্রেপ্তার ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। সুশ্রীতা সোরেন নামে এক আদিবাসী ছাত্রীর গায়ে জ্বলন্ত মোম ঢেলে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে। ছাব্বিশের নির্বাচনে সেই সুশ্রীতার উপরই ভরসা করল এসইউসিআই। মেদিনীপুর আসন থেকে প্রার্থী করা হয়েছে তাঁকে।
ঠিক কী অভিযোগ করেছিলেন সুশ্রীতা? তাঁর দাবি, ধর্মঘটে অংশ নেওয়ার জন্য তাঁদেরকে বিনা প্ররোচনায় আটক করে পুলিশ। থানায় নিয়ে গিয়ে তাঁর উপর অকথ্য অত্যাচার চালানো হয়। সুশ্রীতা বলেন, "থানায় নিয়েগিয়ে ওসি প্রথমেই জ্বলন্ত মোম ঢেলে দেয় আমার হাতে। এরপর চলতে থাকে কিল, ঘুসি, পুলিশ মেরে পুঁতে দেওয়ার হুমকিও দেয়।" নেত্রীর অভিযোগ ছিল, সিসিটিভির আওতার বাইরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছিল। সুশ্রীতা একা নন, অত্যাচারের শিকার হয়েছিলেন আরও কয়েকজন।
এই অত্যাচার নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলে চর্চায় উঠে এসেছিলেন ছাত্র-নেত্রী সুশ্রীতা। বারবার ফুঁসে উঠেছিলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। পুলিশের বিরুদ্ধে পদক্ষেপেও পিছু হটেননি তিনি। ঘটনার জল গড়িয়েছিল হাই কোর্ট পর্যন্ত। ছাব্বিশের নির্বাচনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করা সেই আদিবাসী ছাত্রীর উপরই ভরসা রাখল এসইউসিআই। বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর আসনে লড়াই করবেন তিনি।
