রাজনৈতিক আদর্শ থেকে আন্দোলন - মূল স্রোত থেকে বরাবর আলাদা। ভোটকেন্দ্রিক নয়, বরং সারাবছর নানা ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে পথে আন্দোলনে থাকে তারা। তবে পরিষদীয় রাজনীতির প্রতি সম্মানও আছে। আর সেই কারণে প্রতি নির্বাচনী লড়াইয়ে অংশ নেয় সোশালিস্ট ইউনিট সেন্টার অফ ইন্ডিয়া (কমিউনিস্ট) বা এসইউসিআই। তাদের নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্কও আছে।সেটাই মূল ভিত্তি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে এই এসইউসিআই প্রথম প্রার্থী ঘোষণা করতে চলেছে। সূত্রের খবর, রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে কমবেশি আড়াইশো আসনে তারা লড়বে। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। সোমবার ওয়েলিংটনের সদর দপ্তর থেকে তা ঘোষণা করা হবে। এদিক থেকে মূল স্রোতের বাকি রাজনৈতিক দলগুলির থেকে অন্তত একধাপ এগিয়ে গেল এসইউসিআই।
এসইউসিআই সূত্রে খবর, রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় আড়াইশো আসনে প্রার্থী দেওয়া। জোর দেওয়া হচ্ছে যুবশক্তিতেই। সোমবার দল বরাবরই জানিয়েছে, কোনও নির্বাচনমুখী দল নয় তারা। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভোটের সময় পরিষদীয় রাজনীতিকে সম্মান জানিয়ে প্রত্যেক নির্বাচনী লড়াইয়ে তারা অংশ নেয়। আর সেই কারণে সোমবার তাঁদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে চলেছে। আসন্ন নির্বাচনে এসআইআর ইস্যু তো বটেই, সেইসঙ্গে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে কেন্দ্র সরকারের ভুল বিদেশনীতির বিরোধিতা করছে কমিউনিস্ট দলটি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ইস্যুতেও বরাবরের মতো ভোটেও সরব হতে চলেছে এসইউসিআই।
এসআইআরের পর রাজ্যের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর ৬০ লক্ষ ভোটার বিচারাধীন থাকা নিয়ে গোড়া থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে এসইউসিআই। অন্তত তিনদফা দাবি নিয়ে মার্চের গোড়া থেকে কমিশনের উপর চাপ বাড়িয়েছে তারা। SIR-এর জন্য কোনও যোগ্য ভোটারের নাম যেন তালিকা থেকে বাদ না যায়, এই দাবির পাশাপাশি যুক্তিহীন ‘তথ্যগত অসঙ্গতি’-র অজুহাতে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না, শুনানিতে প্রয়োজনীয় নথি দেওয়া সত্ত্বেও যাঁদের নাম কাটা হয়েছে তাঁদের দ্রুত তালিকাভুক্ত করতে হবে এবং অতি দ্রুত সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা প্রকাশ করে আগামী নির্বাচনে সবার ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে - এসব দাবি ছিল। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দপ্তরে বিক্ষোভ, স্মারকলিপি দেওয়া হয় এসইউসিআই-এর তরফে। এসবের পর রবিবার ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর সোমবারই তারা নিজেদের প্রার্থী ঘোষণার কথা জানিয়ে দিল।
