বাংলার ভোটার তালিকা আপাতত 'ফ্রিজ'। বিবেচনাধীনদের মধ্যে বাদ পড়ে গিয়েছেন অনেকেই। এদিকে, সোমবার থেকেই সম্ভবত ট্রাইব্যুনালের কাজও শুরু হয়ে যাবে। ট্রাইব্যুনালে 'বৈধ' বলে বিবেচিত ভোটাররা কি দিতে পারবেন ভোট, এটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন। আজই সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে পারে। তাই স্বাভাবিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে এখন নজর গোটা বাংলার।
রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোটার তালিকা ইতিমধ্যেই 'ফ্রিজ' করে দেওয়া হয়েছে। তা এখনই পরিবর্তন করা যাবে না। যাঁদের নাম তালিকায় রয়েছে,তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। আর যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের আবেদন পুনর্বিবেচনা করবে এই ট্রাইব্যুনাল। রাজ্যে দু'দফায় ভোট। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল। সেখানেই প্রশ্ন, যদি ভোটের আগে, কারও নাম বৈধ বলে জানায় ট্রাইব্যুনাল, সেক্ষেত্রে ওই বৈধ ভোটার কি ভোট দিতে পারবেন। এক আইনজীবীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ, ভোটাধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সুপ্রিম কোর্ট কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা নাগরিকরা।
২৩ এপ্রিল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে ভোট হবে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বিধানসভার প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন ৩ কোটি ৬০ লক্ষ ৭৭ হাজার ১৭১ জন। ১ কোটি ৮৪ লক্ষ ৯৯ হাজার ৪৯৬ জন পুরুষ, ১ কোটি ৭৫ লক্ষ ৭৭ হাজার ২১০ জন মহিলা ও ৪৬৫ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ভোটগ্রহণে অংশ নিতে পারবেন। ২৯ এপ্রিল হবে দ্বিতীয় দফায় ভোট। এই দফায় বাকি ১৪২টি কেন্দ্রে নির্বাচন হবে। প্রথম দফায় মুর্শিদাবাদে সবচেয়ে বেশি, ৫০ লক্ষ ২৬ হাজার ভোটার ভোট দিতে পারবেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় ৪১ লক্ষ ৬০ হাজার ভোটার রয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের ভোটার ৩৭ লক্ষ ৭০ হাজার। কালিম্পং জেলায় সবচেয়ে কম, মাত্র ২ লক্ষ ১ হাজার ভোটার ভোট দিতে পারবেন। কয়েক লক্ষ মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই রবিবার ট্রাইব্যুনাল সেন্টার পরিদর্শন করেন বিচারপতিরা। দক্ষিণ শহরতলির জোকায় ডায়মন্ডহারবার রোডের পাশেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওয়াটার অ্যান্ড স্যানিটেশন-এর পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন তাঁরা। কমিশন সূত্রে খবর, ট্রাইব্যুনালে ১৯ জন জুডিসিয়াল অফিসার থাকছেন। থাকছেন ৩ জন এডিএম পর্যায়ের অফিসার।
