ভবানীপুরে প্রচারে থানায় গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বচসার পর এবার মহিষাদলে থানায় গিয়ে এএসআইকে ধমক বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari)! ওসির বিরুদ্ধে হোয়াটসঅ্যাপ কল করে বিজেপির এক নেতাকে তৃণমূলে যোগদান করার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তুলে শুভেন্দুর হুঁশিয়ারি, ‘‘আমি সতর্ক করে দিয়ে গেলাম। আপনি বলবেন বিশ্বনাথ ব্যানার্জির সব রেকর্ডিং করে আমাকে দিয়েছেন। মনে রাখবেন তৃণমূল আপনাদের বেতন দেয় না। ট্যাক্সের টাকায় বেতন পান। নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী কাজ করতে বলবেন।’’
শুক্রবার সকালে মহিষাদলে বিজেপি দ্বন্দ্ব মেটাতে অভিমানী বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। দীর্ঘক্ষণ বৈঠকের পর বিশ্বনাথকে পাশে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে শুভেন্দু। শুভেন্দু বলেন, ‘‘উনি একটু অভিমান করেছিলেন। তবে দল ছাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। আগামিদিনে ডবলের বেশি ভোটে মহিষাদল বিধানসভা থেকে বিজেপির বিধায়ক নির্বাচিত করা আমাদের মূল কাজ।’’ মহিষাদলে দলকে প্রতিষ্ঠার কারিগর হওয়া সত্ত্বেও বিজেপির প্রার্থী তালিকায় বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থান হয়নি। আর এ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়। তার সমাধানেই শুক্রবার মহিষাদলে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। বিশ্বনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, ‘‘প্রথম থেকেই বলেছি, দলের সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করার ব্যাপার নেই। সেই জায়গায় আক্ষেপ হয়েছিল। দাদা এসেছিলেন, দাদার সঙ্গে কথা হয়েছে।’’
দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে দেখা করার পর তিনি মহিষাদল থানায় যান। মহিষাদল থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক থানায় না থাকায় ডিউটি অফিসারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তঁার অভিযোগ, এক তৃণমূল নেতার নাম করে তৃণমূলে যোগদানের জন্য বিশ্বনাথকে ফোন করেছিলেন ওই থানার ওসি। শুভেন্দু অধিকারীকে বলতে শোনা যায়, হোয়াটসঅ্যাপ কল করে উনি এবং আর এক পুলিশ অফিসার কথা বলেছিলেন। আমাদের কাছে কমপ্লিট রেকর্ডটা আছে। এগুলো পুলিশের কাজ নয়।’’ তবে এতসবের পরও কি বিজেপির দ্বন্দ্ব মিটল? বিজেপি নাম ঘোষণা পর প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে দেখা যাচ্ছে না এক জেলার নেতৃত্বকে। তিনিও এবার মহিষাদল বিধানসভার প্রার্থী দাবিদার ছিলেন। এদিন সকালে বিশ্বনাথের বাড়িতে গিয়ে পৌঁছয় শুভেন্দু বিশ্বনাথকে ফেরানো হলেও জেলার জেনারেল সেক্রেটারি সোমনাথ ভুঁইয়াকে প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে না দেখা যাওয়ায় রাজনৈতিক গুঞ্জন ছড়াচ্ছে।
