ভোটের ময়দানে এবার 'ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টি'। রাজ্যের ২৯৪টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তাদের আহ্বান, 'হিন্দুত্বের পক্ষে বাংলার ভবিষ্যতের পক্ষে একসাথে দাঁড়ান।' আর তাতেই চিন্তায় রাজ্যের গেরুয়া শিবির। জেলায় আদি-নব্য বিজেপির দ্বন্দ্ব সুবিদিত। এবার অফিশিয়াল গোষ্ঠীতে কল্কে না পাওয়া আদি বিজেপি শিবির ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টির হয়ে প্রার্থী হতে আবেদন করেছেন। দল গুরুত্ব না দিলে ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টিতেই আস্থা রাখবেন তাঁরা।
ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টির তরফে সমাজমাধ্যমে প্রচার শুরু হয়েছে। মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রার্থী হওয়ার আবেদন সংগ্রহ করছে তারা। বর্ধমানের এক আদি বিজেপি নেতা সন্দীপ পাল সমাজমাধ্যমে ভারতীয় হিন্দু সেনার প্রচারের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, "বিজেপিতে যাঁরা টিকিট পাবেন না, তাঁদের আর তৃণমূলে যাওয়ার দরকার নেই। নতুন পার্টি এসে গিয়েছে। চট করে ফোন করে নিন আর দাঁড়িয়ে যান।" আর এক আদি বিজেপি নেতা বলেন, "বিজেপির পদাধিকারীরা এখন তৃণমূল, সিপিএমের দালালে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। যাঁরা দলের জন্য রক্ত ঝরিয়েছেন এখন তাঁদের কোনও গুরুত্ব নেই।" তাঁর হুঙ্কার, "পূর্ব বর্ধমানে সব আসনেই ওই পার্টি প্রার্থী দেবে। আমরা প্রয়োজনে আলাদাভাবেও প্রার্থী দেব। আদিদের ক্ষমতা বিজেপির পদাধিকারীদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে ভোটের ফলাফলে।" আদি বিজেপি নেতা কেশব কোঙার বলেন, "জেলায় সিপিএম পন্থী, তৃণমূলী জেলা সভাপতিদের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।"
ভোটের ময়দানে অনেক কিছুই ঘটে থাকে। ভারতীয় হিন্দু সেনার হাত ধরে আদি বিজেপি কতটা দাগ কাটে সেটা দেখার। তবে বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য বিশেষ আমল দিচ্ছেন না আদিদের কথায়। বিজেপির মুখপাত্র সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় হিন্দু সেনা পার্টি নিয়ে বলেন, "এই ধরনের কোনও দল রয়েছে কি না, জানা নেই। নির্বাচন ঘোষণার পর কোনও দল ঘোষণা করা যায় কি না, জানা নেই। এই দল তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে বলে বলে সন্দেহ।" এর আগেও বিজেপির বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। এই ধরনের প্রার্থী ঘোষণার ফলে বিজেপি দলের উপর কোনও প্রভাব পড়বে না।"
