জলপাইগুড়িতে বিজেপির গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ছিলই! মনোনয়নপত্র জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে সেই কোন্দল। এবার প্রশাসনিক ভবনে। সবার সামনে। শনিবার সকালে একই আসনে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন দিতে হাজির দুই প্রার্থী। তা নিয়ে তুমুল উত্তেজনা জলপাইগুড়ি জেলাশাসক কার্যালয়ের বাইরে। বিষয়টি ঠিক কী?
জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি আসনে বিজেপি প্রথম প্রার্থী করে বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক রায়কে।পরে তাঁকে বদলে সেই আসনে প্রার্থী করা হয় বর্ষীয়ান নেতা ডালিম রায়কে। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ঝামেলা ছিলই। আজ, শনিবার ময়নাগুড়ি বিধানসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা করেন কৌশিক রায় ও ডালিম রায় দু'জনেই।
কৌশিক রায় বিদায়ী বিধায়ক। তাঁকে টিকিট দেওয়ার পরও সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি প্রার্থী পদ ছাড়তে নারাজ। এদিন সকালে মনোনয়নপত্র জমা করেন তিনি। খবর পেয়ে ছুটে আসেন ডালিম রায়। তিনিও মনোনয়ন পত্র জমা করেন। দু'জনেরই দাবি, তিনিই বিজেপির ময়নাগুড়ি বিধানসভা আসনের পদ্ম প্রার্থী।
মনোয়নপত্র জমা দেওয়ার পর ডালিম রায় বলেন, "প্রতীক-সহ মনোনয়ন জমা দিয়েছি।" তাঁকে প্রশ্ন করা হয় অন্য একজনও বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। শুনে ডালিম বলেন, "কে কী করছে আমি বলতে পারব না। বিজেপির দু'টি প্রতীক হয় না। আমি প্রতীক-সহ মনোনয়ন জমা দিয়েছি।" অন্যদিকে বিদায়ী বিধায়ক কৌশিক বলেন, "বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন জমা দিয়েছি।" এর বাইরে আর কিছু বলতে চাননি তিনি। কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, "কৌশিক রায় প্রাক্তন বিধায়ক। এখনও পর্যন্ত দলের নেতা। তবে এই কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী ডালিম রায়ই। তাঁকেই দল প্রতীক দিয়েছে।" গোটা ঘটনায় ময়নাগুড়িতে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। ঘটনায় অবাক বিজেপি কর্মীরাও। এই ঘটনায় বিজেপিকে কটাক্ষ করেছে বিরোধীদলগুলি।
