মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চোখে চোখ রেখে জবাব দিয়েছিলেন। সেই বৈঠকের মাঝে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় কোচবিহার দক্ষিণের পর্যবেক্ষক অনুরাগ যাদবকে (Anurag Yadav)। তাঁকে নিয়ে সর্বত্র চলছে জোর চর্চা। জানা গিয়েছে, আইএএস অফিসার অনুরাগ যাদব। উত্তরপ্রদেশের প্রিন্সিপাল সচিব ছিলেন তিনি। একসময় সমাজ ও সেনাকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন। উত্তরপ্রদেশের তথ্যপ্রযুক্তি দপ্তরের দায়িত্বেও ছিলেন অনুরাগ। তারপরই তাঁকে কোচবিহারের ভোট পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেয় নির্বাচন কমিশন।
আচমকা তাঁকে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চলছে জোর রাজনৈতিক চাপানউতোর। কারণ, ঘটনার পর্যায়ক্রম সম্ভবত সে ইঙ্গিত করছে বলেই দাবি রাজনীতিকদের। আসল বিষয় হল, বুধবার পর্যবেক্ষকদের নিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের বৈঠক চলছিল। সেই সময় নাকি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সকলকে আওতাধীন কেন্দ্রে কতগুলি করে ভোটকেন্দ্র আছে, সে প্রশ্ন করতে থাকেন। সূত্রের খবর, জ্ঞানেশের প্রশ্নের জবাব দিতে নাকি খানিকটা দেরি হয় অনুরাগের। তাতেই রেগে যান জ্ঞানেশ। তাঁকে নাকি বলেন, "সাধারণ বিষয় জানেন না?" একথা শুনে আবার বিরক্ত হন ওই আধিকারিক। তিনি পালটা বলেন, "আমি ২৫ বছর পেশায় আছি। এভাবে আপনি কথা বলতে পারেন না।"
সেই সময় প্রায় শান্ত হয়ে যায় চতুর্দিক। পরে যদিও নীরবতা ভাঙেন খোদ জ্ঞানেশই। আবার এগোতে থাকে বৈঠক। যদিও বৈঠকে আর এই বিষয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। তবে বৈঠকের মাঝেই কোচবিহার দক্ষিণের পর্যবেক্ষকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় অনুরাগ যাদবকে (Anurag Yadav)। এই ঘটনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন রাজনীতিকরা। কোচবিহার দক্ষিণের তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ দে ভৌমিক বলেন, "এই নির্বাচনী ব্যবস্থায় অনুরাগ যাদব ব্যতিক্রমী। যিনি সাহস করে প্রতিবাদ করেন। ৯০ ভাগ আইএএস অফিসারদের ধমকানো, চমকানো হচ্ছে। আইএএস অফিসারেরা প্রতিবাদ করতে শুরু করেছেন। আমরা চাই, এটা চলতে থাকুক। যাঁরা বিজেপিকে জেতানোর ঠিকা নিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে সব আইএএস অফিসার নেই। সেটাই অনুরাগ যাদব প্রমাণ করেছেন।"
