shono
Advertisement
WB Assembly Election 2026

নিষিদ্ধ প্রচার, নেই দেওয়াল লিখনও, বাংলার কোথায় ভোটে এই ব্যতিক্রমী ছবি?

যেদিন থেকে ভারতে নির্বাচন নামক রাজনৈতিক 'যুদ্ধ' শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই প্রচার নিষিদ্ধ। না দেওয়াল লিখন, না দলের পতাকা, ব্যানার, ফ্লেক্স কিংবা পোস্টার, স্লোগান সবেতেই নিষেধ এই গ্রামে। প্রায় ২০০ বছরের পুরনো গ্রামে কেন এই প্রথা আজও অটুট?
Published By: Sayani SenPosted: 08:32 PM Apr 09, 2026Updated: 08:41 PM Apr 09, 2026

সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে। যেদিন থেকে ভারতে নির্বাচন নামক রাজনৈতিক 'যুদ্ধ' শুরু হয়েছে সেদিন থেকেই প্রচার নিষিদ্ধ দুর্গাপুরের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের করঙ্গপাড়া গ্রামে। না দেওয়াল লিখন, না দলের পতাকা, ব্যানার, ফ্লেক্স কিংবা পোস্টার, স্লোগান সবেতেই নিষেধ এই গ্রামে। প্রার্থীরা এখানে প্রচারে আসেন দলীয় পতাকা ছাড়াই। তবে প্রবল রাজনৈতিক সচেতন এই গ্রাম। এই গ্রামই একজন প্রাক্তন বিধায়ক থেকে ৪ জন কাউন্সিলর উপহার দিয়েছে দুর্গাপুরকে। এবারও দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এই গ্রামেরই ছেলে।

Advertisement

গ্রামের অলিগলিতে নেই রাজনৈতিক উত্তাপ। ছবি: সনাতন গড়াই

প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার এই গ্রাম দুর্গাপুরের অত্যন্ত বর্ধিষ্ণু গ্রাম। এই গ্রামে প্রচারের প্রথা অনুযায়ী, প্রথমে গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতির অনুমতি নিয়ে প্রার্থীরা প্রচার করতে পারবেন। কিন্তু শর্ত একটাই, কোনো দলীয় পতাকা, স্লোগান দেওয়া যাবে না। বুধবার সন্ধ্যায় এই নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে এই গ্রামে পা রাখেন দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত। তৃণমূলের প্রার্থীরা দলের প্রতীক লাগানো যে ব্যাজ পরেন তা খুলেই কবি দত্ত ঢোকেন করঙ্গপাড়া গ্রামে। এমনকি দলীয় উত্তরীয়ও গলা থেকে খুলে নেন তিনি।

কেন এই প্রথা?  গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতি পরিমল দত্ত বলেন, "দেশে নির্বাচন শুরুর সময় থেকেই এই প্রথা চলেছে আমাদের গ্রামে। কোনও রাজনৈতিক সংকীর্ণতা, দলাদলি কিংবা হানাহানির কারণে গ্রামের পরিবেশ বা শান্তি বিঘ্নিত না হয়, বিভেদ সৃষ্টি না হয় এমন কারণেই আমাদের পূর্বপুরুষরা রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করেন এই গ্রামে।"

কেন এই প্রথা? প্রায় ২০০ বছরের পুরনো এই গ্রামের গ্রাম উন্নয়ন সমিতির সভাপতি বছর চুরাশির পরিমল দত্ত বলেন, "দেশে নির্বাচন শুরুর সময় থেকেই এই প্রথা চলেছে আমাদের গ্রামে। কোনও রাজনৈতিক সংকীর্ণতা, দলাদলি কিংবা হানাহানির কারণে গ্রামের পরিবেশ বা শান্তি বিঘ্নিত না হয়, বিভেদ সৃষ্টি না হয় এমন কারণেই আমাদের পূর্বপুরুষরা রাজনৈতিক প্রচার নিষিদ্ধ করেন এই গ্রামে।"

এই গ্রামের মেয়ে বর্তমানে এই গ্রামেই বিয়ে হয়েছে গৃহবধূ সুমিতা সাঁই বলেন," আমরা প্রবলভাবে রাজনৈতিক সচেতন। আমাদের বোঝানোর দরকার পড়ে না।" এই গ্রামের বাসিন্দা দেবব্রত সাঁই, প্রিয়াঙ্কী পাঁজা, রুমা পারিয়াল, চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় কাউন্সিলর হয়েছেন। বিশ্বনাথ পারিয়াল কাউন্সিলর ছাড়াও বিধায়কও হয়েছেন। চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবারও দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি প্রার্থী। কী বলছেন প্রার্থীরা এই প্রচার বিমুখতা নিয়ে? দুর্গাপুর পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত বলেন, "রাজনীতির বাইরে গিয়ে বলতে পারি আগামী দিনে হয়তো এই গ্রামই ভোট প্রচারের রোল মডেল হতে পারে। গ্রামের এই প্রথাকে আমি সম্মান করি।" বিজেপি প্রার্থী লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, " যত বছর রাজনীতি করছি করঙ্গপাড়া আমাকে অবাক করে। নতমস্তকে প্রণাম গ্রামের এই অভিনব প্রথাকে।" সিপিএমের প্রার্থী প্রভাস সাঁইও গ্রামের এই প্রথাকে স্যালুট জানিয়েছেন। তিনি বলেন,"ভোটের বাজারে পরিচ্ছন্ন দেওয়ালই এ গ্রামের সৌন্দর্য, যা সব দলই সম্মান করে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement