বিধানসভা নির্বাচনের আগে একের পর এক প্রশাসনিক রদবদল হচ্ছে কমিশনের নির্দেশে। রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশ কমিশনার-সহ একাধিক পদে বদলি হয়েছে। এবার রিটার্নিং অফিসার বদল হতে পারে। সেই জল্পনার কথা উঠে আসছে। মোট ৭২ জনকে সরানো হবে। এমন কথাও শোনা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির কথায় কাজ করছে। এমন অভিযোগ করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূল নেতৃত্ব।
বাংলায় এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। প্রথম দফায় প্রায় ৬৩ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। এখনও বিচারাধীন বাংলার ৬০ লক্ষ মানুষের নাম। সেই আবহেই বাংলায় দু'দফায় বিধানসভা নির্বাচনের কথা ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোট। দিন ঘোষণার পর থেকেই বাংলায় সরকারি আমলাদের সরিয়ে দেওয়া শুরু হয়েছে। রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মিনাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের একাধিক প্রশাসনিক পদে বদল হয়েছে। একাধিক পর্যবেক্ষককেও ভিনরাজ্য থেকে বাংলায় পাঠানো হচ্ছে বলে খবর।
রাজ্যের ২৯৪টি আসনের জন্য ২৯৪ জন রিটানিং অফিসার নিযুক্ত থাকেন। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা নেওয়া থেকে ভোটের একাধিক বিষয়ে তাঁদের উপর গুরুদায়িত্ব থাকে। এবার ওই রিটানিং অফিসারদের একটা অংশকেও বদল করা হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। নির্বাচন কমিশনের অন্দরের খবর, ৭২ জন রিটানিং অফিসারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। ওই জায়গায় নতুনরা দায়িত্বে আসবেন।
প্রসঙ্গত, বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না নির্বাচন কমিশন। আগেই জানা গিয়েছে, ভোটের আগেই রাজ্যে আসছেন ভিন রাজ্যের ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক। বিহার, তেলেঙ্গানা, দিল্লি, পাঞ্জাব-সহ দেশের একাধিক রাজ্য থেকে এই সমস্ত পর্যবেক্ষককে রাজ্যে নিয়োগ করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেক বিধানসভার জন্য এক জন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে কমিশন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনী আয়-ব্যয় খতিয়ে দেখার কাজে নিযুক্ত পর্যবেক্ষকদের সংখ্যাও এবার বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের একধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি করেছে কমিশন।
