উত্তরে ভোটপ্রচার শুরু করেই কার্যত বড় লাভ ঘরে তুলল শাসকদল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে ঘরে ফিরলেন কালচিনির দীর্ঘদিনের প্রাক্তন বিধায়ক উইলসন চম্প্রমারি। জয়গাঁ শহরে অভিষেকের রোড শো থেকে দলীয় পতাকা হাতে তুলে নিলেন তিনি। আদিবাসী ও চা বাগান মহল্লায় উইলসন চম্প্রমারি বেশ জনপ্রিয় মুখ। তাঁকে দলে স্বাগত জানিয়ে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা জেলা তৃণমূলের সভাপতি প্রকাশ চিক বরাইক জানান, এবার থেকে জেলায় যে নির্বাচনী কমিটি রয়েছে, তাতে চম্প্রমারিকে শামিল করবেন। পুরনো দলে ফেরা নিয়ে যদিও এখনই মুখ খোলেননি চম্প্রমারি।
২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত টানা ১২ বছর কালচিনির বিধায়ক ছিলেন এই উইলসন চম্প্রমারি। একসময় তাঁর বিরুদ্ধে চন্দন কাঠ পাচারেরও অভিযোগ উঠেছিল। সেসব উপেক্ষা করেই ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে জিতে প্রথম কালচিনির বিধায়ক হন চম্প্রামারি। পরে তৃণমূলে যোগদান এবং ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে কালচিনি থেকে জয়ী হন। কিন্তু ২০২১ সালে উইলসনকে আর টিকিট দেয়নি তৃণমূল। সেবার তৃণমূল কংগ্রেস পাশাং লামাকে টিকিট দিলে বিক্ষুব্ধ উইলসন চম্প্রমারি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
এ সপ্তাহেই ছাব্বিশের ভোটপ্রচার শুরু করেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের 'সেনাপতি' অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণবঙ্গ থেকে প্রচার শুরু করে বৃহস্পতিবারই উত্তরে ভোট প্রচারে গিয়েছেন অভিষেক। নাটাবাড়ি, ধূপগুড়িতে জনসভার পর আলিপুরদুয়ারে রোড শো করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। এদিন জয়গাঁর গোপীমোহন মাঠ থেকে ভুটান গেট পর্যন্ত আড়াই কিলোমিটার রোড শো ছিল। ভুটান গেটের কাছেই অভিষেকের গাড়িতে উঠতে দেখা যায় উইলসন চম্প্রমারিকে। এরপরই তিনি অভিষেকের হাত থেকে দলীয় পতাকা গ্রহণ করেন। তবে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক বলেন, “উইলসন একসময় আমাদের দলেরই বিধায়ক ছিলেন। উনি বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। আবার উনি আমাদের দলে এসেছেন। উনি বুঝে গেছেন বিজেপি মানুষের কোন উপকার করে না। সেই কারণে আমাদের দলে ফিরে এসেছেন।
গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার টিকিটে দুবার কালচিনির বিধায়ক হয়েছিলেন। ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে ফের বিধায়ক হন । কালচিনির সেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উইলসন চম্প্রামারি বিজেপি ঘুরে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন। বৃহস্পতিবার ভারত ভুটান সীমান্তের জয়গাঁতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রোড শোর মঞ্চে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে নেন উইলসন। এদিন উইলসনের হাতে তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা তুলে দেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে নেওয়ার পর কোন মন্তব্য করতে চান নি উইলসন চম্প্রামারি। তবে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা রাজ্য সভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক বলেন, “উইলসন একসময় আমাদের দলেরই বিধায়ক ছিলেন। উনি বিজেপিতে চলে গিয়েছিলেন। আবার উনি আমাদের দলে এসেছেন। উনি বুঝে গিয়েছেন, বিজেপি মানুষের কোনও উপকার করে না। সেই কারণে আমাদের দলে ফিরে এসেছেন।''
২০২১ সালে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন উইলসন চম্প্রমারি। ফাইল ছবি
২০০৯ থেকে ২০২১ পর্যন্ত টানা ১২ বছর কালচিনির বিধায়ক ছিলেন এই উইলসন চম্প্রমারি। একসময় তাঁর বিরুদ্ধে চন্দন কাঠ পাচারেরও অভিযোগ উঠেছিল। সেসব উপেক্ষা করেই ২০০৯ সালের উপনির্বাচনে জিতে প্রথম কালচিনির বিধায়ক হন চম্প্রামারি। সেবার কালচিনির বিধায়ক আরএসপি-র মনোহর তিরকে লোকসভার টিকিটে জিতে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হন। সেই কারণে কালচিনি বিধানসভায় উপনির্বাচন হয়। সেই উপনির্বাচনে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার টিকিটে কালচিনি বিধানসভায় জয়ী হন চম্প্রমারি। ২০১১ সালেও গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার টিকিটে কালচিনি বিধানসভার নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি। এরপর তৃণমূলে যোগদান এবং ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে কালচিনি বিধানসভার সেবারের বিজেপি প্রার্থী বর্তমানে কালচিনি বিধানসভার বিজেপি বিধায়ক বিশাল লামাকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছিলেন উইলসন।
কিন্তু ২০২১ সালে উইলসনকে আর টিকিট দেয়নি তৃণমূল। সেবার তৃণমূল কংগ্রেস পাশাং লামাকে টিকিট দিলে বিক্ষুব্ধ উইলসন চম্প্রমারি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। কিন্তু সেবার বিজেপি প্রার্থী বিশাল লামা কালচিনি বিধানসভায় জয়লাভ করেন। এবারও বিজেপির পক্ষ থেকে বিশাল লামাকে প্রার্থী করা হয়েছে। তৃণমূলের প্রার্থী বীরেন বরা ওঁরাও। বিশাল লামার মতো পুরনো প্রতিদ্বন্দ্বীকে ভোটযুদ্ধে হারাতে উইলসন চম্প্রামারিকে জেলা তৃণমূল কাজে লাগাতে চলেছে বলে খবর।
