মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিলেন পাঁচমন্ত্রী। দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনীয়া, ক্ষুদিরাম টুডু মন্ত্রী হিসাবে শপথ নিলেন। তাঁদের সকলকে শপথ বাক্যপাঠ করান রাজ্যপাল আরএন রবি। বাকি মন্ত্রীদের শপথ আগামী সোমবার। সেই শপথ অনুষ্ঠান হবে লোকভবনে (পূর্বে রাজভবন)। তারপর নবগঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। বুধবার বাকি বিধায়কদের শপথ।
শনিবার ব্রিগেড ময়দানে শুভেন্দু-সহ ৬ মন্ত্রী শপথ নিলেন। শিশিরপুত্র মুখ্যমন্ত্রী হবেন তা শুক্রবারই জানা গিয়েছিল। আজ, শনিবার দিলীপদের নাম ঘোষণা করা হল। এই পাঁচজন কোন কোন দপ্তর পাচ্ছেন তা জানা যায়নি। মন্ত্রিসভার এই পাঁচ সদস্যের শপথকে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজনৈতিক মহল।
শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছে বনগাঁ উত্তর থেকে জিতে আসা অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়াদের গড় থেকে উঠে আসা অশোককে মন্ত্রী করে খুব স্বাভাবিকভাবেই মতুয়া ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বনগাঁ ঠাকুর বাড়ি থেকে কাউকে এখনও মন্ত্রী ঘোষণা না করা কি ঠাকুর বাড়ি থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইঙ্গিত উঠছে সেই প্রশ্নও।
দিলীপ ঘোষকে বাংলায় বিজেপির উত্থানের কাণ্ডারি বললে ভুল বলা হয় না। দলকে ৩ থেকে ৭৭ করার পিছনে রয়েছেন তিনিই। অন্যতম সফল রাজ্য সভাপতি দিলীপ। তবে মাঝে দলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়ে। সেই ঠান্ডা লড়াই দূরে সরিয়ে রেখে তিনি আজ, রাজ্যে বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রী। দলকে লড়াইয়ের জায়গায় নিয়ে আসার পুরষ্কার পেলেন তিনি। এছাড়াও 'দাবাং' দিলীপ দীর্ঘদিনের আরএসএস কর্মী। সেই দিকেও বার্তা দেওয়া হল বলে মত একাংশের। সঙ্গে শপথ নিয়েছেন অগ্নিমিত্রা পলও। আসানসোল দক্ষিণ থেকে পরপর জিতে আসা অগ্নিমিত্রাকে মন্ত্রী করা হল। তিনি যে বিধানসভা এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন তা শিল্পাঞ্চল। সেই অঞ্চলকে বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় 'লড়াকু' মহিলা মুখও আনল বিজেপি।
শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছে বনগাঁ উত্তর থেকে জিতে আসা অশোক কীর্তনিয়া। মতুয়াদের গড় থেকে উঠে আসা অশোককে মন্ত্রী করে খুব স্বাভাবিকভাবেই মতুয়া ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে বনগাঁ ঠাকুর বাড়ি থেকে কাউকে এখনও মন্ত্রী ঘোষণা না করা কি ঠাকুর বাড়ি থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইঙ্গিত উঠছে সেই প্রশ্নও। প্রথম পাঁচে জায়গা পেয়েছেন অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ রাজবংশী নিশীথ প্রমাণিকও। উত্তরবঙ্গ থেকে প্রতিনিধি তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচন ঢেলে ভোট দেওয়া জঙ্গলমহলকেও নিরাশ করেনি বিজেপি। কুড়মি সমাজ থেকে মন্ত্রী করা হয়েছে ক্ষুদিরাম টুডুকে। সাঁওতালি ভাষায় শপথ নিয়ে নিজের জাতির উন্নতির বার্তা দিয়েছেন তিনি।
