প্রভুভক্ত হিসেবে কুকুরের পরিচিতি তো সেই কবে থেকে। এছাড়াও তাদের বহু প্রতিভার কথা জানেন সারমেয়প্রেমীরা। কিন্তু বাড়ি থেকে বহু দূরে গিয়েও বিড়ালের মতো পা মেপে মেপে ঠিক পথ চিনে ফেরার গুণ যে তাদের আছে, তা কি কেউ জানতেন? জানা যেত না চিনের নানা আকারের ৭ সারমেয়র কীর্তির কথা না জানলে। কী এমন করেছে তারা? শুনলে চমকে যাবেনই। বাড়ি থেকে ১৭ কিলোমিটার দূরে গিয়েও হাইওয়ের ধার ধরে ঠিক ঠিক রাস্তা চিনে মালিকের কাছে ফিরে আসা - চমকপ্রদ ব্যাপার নিঃসন্দেহে। সেই ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় সারমেয়দের এমন কীর্তি দেখে চোখে জল নেটিজেনদেরও। অনেকে বলছেন, এভাবেও ফিরে আসা যায়!
ব্যাপারটা ঠিক কী? জানা গিয়েছে, উত্তরপূর্ব চিনের এক ব্যক্তির ৭টি পোষ্য কুকুর ছিল। ল্যাব্রাডর, গোল্ডেন রিট্রিভার, জার্মান শেফার্ড, কর্গি - কে নেই সেই তালিকায়? কিন্তু কসাইখানার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যক্তি তাদের কৌশলে তুলে নিয়ে যায়। একটি ট্রাকে করে সাত কুকুরকে নিয়ে প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরে নিয়ে যায়। কিন্তু সারমেয়রা নিজেদের বিপদ বুঝতে পেরেছিল। সাত চারপেয়ে একত্রিত হয়ে নিজেদের মধ্যে শলা-পরামর্শ করে। তারপর পাড়ি দেয় মালিকের কাছে ফেরার জন্য। সে এক যাত্রা বটে!
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ছোট-বড় সব কুকুর মিলে অন্ধকারে হাইওয়ের পাশ ঘেঁষে ঘেঁষে আসছে চারপেয়ের দল। কখনও গাড়ির হেডলাইটের আলোয় থমকে যাচ্ছে, কখনও পথ হারিয়ে ফেলছে। কিন্তু যাত্রা চলছেই। ওই কথায় আছে না 'এক পা এগিয়ে, দু পা পিছিয়ে', সেই প্রবাদ মেনেই বোধহয় রাতভর রাস্তায় হেঁটেছে এরা। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, এদের অভয় দিচ্ছে একটি কর্গি, পালের মধ্যে সবচেয়ে খুদে কুকুরটি। সেই সমবেত প্রচেষ্টা সফল হয়। শেষমেশ মালিকের কাছে পৌঁছয় সপ্ত সারমেয়। পোষ্যদের এভাবে ফিরে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন মালিক।
তাঁর মতোই আবেগাপ্লুত নেটিজেনরাও। ভাইরাল ভিডিওর নিচে কেউ কেউ লিখছেন, ভালোবাসাই সবচেয়ে বড়। কারও মন্তব্য, এবার বাড়িটা পূর্ণ হলো। কেউ আবার মালিককে আক্রমণ করেই লিখেছেন, পোষ্যদের সুরক্ষা দিতে না পারলে পোষার দরকার নেই। এভাবে ফিরে আসায় খুদে কর্গিকে দারুণ কৃতিত্ব দিচ্ছেন নেটিজেনরা।
