'কুমিরের পেটের ভেতর দেখি না যে সেই সাঁওতালনী, চার দিন পূর্বে কুমির যাহাকে আস্ত ভক্ষণ করিয়াছিল, সে পূর্বদেশীয় সেই ভদ্রমহিলার সমুদয় গহনাগুলি আপনার সর্বাঙ্গে পরিয়াছে, তাহার পর নিজের বেগুনের ঝুড়িটি সে উপুড় করিয়াছে, সেই বেগুনগুলি সম্মুখে ডাঁই করিয়া রাখিয়াছে।' মনে পড়ে ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়ের সেই গল্প? ডমরুধর জানিয়েছিল এমনই অতিকায় কুমিরের কথা। এবার বাস্তবে তেমনই অতিকায় কুমিরের দেখা মিলল। দক্ষিণ আফ্রিকায় ভয়াল অতিকায় প্রাণীটির পেটের ভিতরে মিলল ৫৯ বছরের এক ব্যক্তির দেহাংশ। মিলল ৬ জোড়া জুতো!
মনে করা হচ্ছে, গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তা নামের ওই ব্যক্তি গাড়ি চালিয়ে নিজের হোটেলের দিকে যাচ্ছিলেন। সেই সময় এক সেতুর উপর দিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িটি জলে পড়ে যায়। বাতিস্তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায় জলের তোড়। আর এরপরই জলের গভীরে লুকিয়ে থাকা কুমিরের শিকার হন তিনি।
জানা গিয়েছে, পুলিশ ড্রোনের মাধ্যমে দেখতে পান এক ব্যক্তিকে খাচ্ছে একটি কুমির। সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে হেলিকপ্টারে তুলে আনায় হয়। ১৫ ফুট দীর্ঘ ও ১ হাজার পাউন্ড ওজনের কুমিরটিকে চিরে ফেলার পর তার ভেতর থেকে মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গিয়েছে। সেই সঙ্গেই মিলেছে ৬ জোড়া জুতো। মনে করা হচ্ছে, বাকিগুলি অন্য শিকারের পায়ে ছিল! এছাড়াও বাতিস্তার আংটিও উদ্ধার করা হয়েছে কুমিরটির পেটের ভিতর থেকে। এদিকে এও মনে করা হচ্ছে, বাতিস্তার দেহটি একটি নয়, অন্য কুমিররা খেয়েছে। কিন্তু এটা বোঝা যাচ্ছে, জলে ডুবে মৃত্যুর পর বাতিস্তার শরীরে কুমির কামড় বসিয়েছিল, নাকি জীবন্ত অবস্থাতেই তিনি কুমিরের কবলে পড়েছিলেন।
