সোশাল মিডিয়ায় প্রেম থেকে বিয়ে। জমিয়ে সংসার করছিলেন যুগল। আচমকা একদিন স্বামী দেখলেন, বাথরুমে দাড়ি কাটছেন স্ত্রী! তাতেই চক্ষুচ়ড়কগাছ দশা। সম্বিত ফিরতেই ঘর ছাড়েন যুবক। কিন্তু সুখের সংসারের শেষ পরিণতি হল ভয়ংকর! স্বামীর হাতে প্রাণ গেল 'পুরুষ স্ত্রীর'। ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের রাজকোটে।
ব্যাপারটা ঠিক কী? জানা গিয়েছে, গুজরাটের রাজকোটের বাসিন্দা পীযূষ কুমার খারওয়ার। তাঁর বয়স ২২ বছর। সোশাল মিডিয়ায় নিশা কুমার নামে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। ইনস্টাগ্রাম আইডির নাম ছিল পুনম। সোশাল মিডিয়ায় শুরু হয় দু'জনের কথা বার্তা। এক পর্যায়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দু'জনে। এরপর লিভ ইন করতে শুরু করেন তাঁরা। পীযূষ বিশ্বাস করতেন তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। তিন বছর এক ছাদের নিচে থাকেন তাঁরা। স্বাভাবিকভাবেই পীযূষ সঙ্গীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টাও করেন। কিন্তু নানারকম অজুহাতে নাকি তা এড়িয়ে যেতেন 'স্ত্রী'। যুবক ভেবেছিলেন একটা সময়ের পর ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা হয়নি।
এসবের মাঝেই একদিন পীযূষ দেখেন, বাথরুমে দাড়ি কাটছেন 'স্ত্রী'। এই দৃশ্য দেখে স্বাভাবিকভাবে তিনি স্তম্ভিত হয়ে যান। বুঝতে পারেন, এতদিন নারী ভেবে যার সঙ্গে ঘর করছিলেন তিনি আদতে পুরুষ। জানতে পারেন সঙ্গী সমকামী। সেই কারণেই এই সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। এরপরই বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান পীযূষ। হায়দরাবাদ, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান-সহ একাধিক জায়গায় ঘোরেন তিনি। এদিকে তাঁর পিছু নেন 'স্ত্রী' চন্দন। এদিকে ততদিনে চন্দনের যাবতীয় তথ্য পেয়ে গিয়েছেন পীযূষ।
গত ২১ জুন রাজকোটে মুখোমুখি হন পীযূষ ও চন্দন। পুলিশ সূত্রে খবর, সেখানে প্রবল বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন দু'জন। সেই সময়ই ভারী পাথর দিয়ে চন্দনের মাথায় আঘাত করেন পীযূষ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চন্দনের। ২৫ জুন পাথরের মধ্যে মেলে দেহ। খুনের মামলা রুজু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে পীযূষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অনলাইনে প্রেম নতুন নয়, তবে এর পরিণতি যে কতটা ভয়ংকর হতে পারে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।
