বিয়েবাড়ির নিমন্ত্রণ। ঢাকঢোল বাজিয়ে মহা সমারোহে হাজির বরযাত্রী। সময়মতো শুরু হয়ে গেল বিয়ের আচারও। কিন্তু খাওয়ার সময় হতেই এক বালতি দুধে এক ফোঁটা চোনা। পাত্রীপক্ষ কথা দিয়েছিল, বিয়েতে ঢালাও মাটনের ব্যবস্থা থাকবে। বরযাত্রীরাও আশায় আশায় ছিল, কবজি ডুবিয়ে পাঁঠার মাংস খাবেন। কিন্তু পাতে পড়ল চিকেন! সেই নিয়ে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল বিহারের বিয়েবাড়ি।
বৃহস্পতিবার ছিল মহম্মদ আবদুল্লা ওরফে চাঁদের সঙ্গে মহম্মদ জাভেদের কন্যার বিয়ে। বিহারের সহর্ষ জেলার সিমরি বখতিয়ারপুরে বসেছিল বিয়ের আসর। যাবতীয় আচার অনুষ্ঠান সেরে, নিয়ম পালন করে নিকাহ সম্পন্ন হতে বেলা গড়িয়ে যায়। বিকেল তিনটে নাগাদ শেষ হয় নিকাহ। ক্ষুধার্ত বরযাত্রীরা যখন খেতে বসেছেন, তখনই সমস্যার সূত্রপাত। খাবারের পাতে খাসির বদলে মুরগি দেখে বরযাত্রীদের মেজাজ সপ্তমে। প্রতিশ্রুতি দিয়েও কেন খাসির মাংস খাওয়ানো হল না, সেই নিয়ে দু'চার কথা শুনিয়েও দেন।
সেটা একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি কন্যাপক্ষ। মাংস না পেয়ে বরযাত্রীরা যখন ক্ষোভ উগরে দিচ্ছে, তখন কন্যাপক্ষও পালটা সুর চড়াতে শুরু করে। ধীরে ধীরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। দেখতে দেখতে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে বিয়েবাড়ি। সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল বেশ কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, লাঠি নিয়ে একে অপরের দিকে তেড়ে যাচ্ছে দুই পক্ষ। কয়েকজনের হাতে তরোয়ালও দেখা যায়। মারধরের দৃশ্যও ধরা পড়েছে ভিডিওতে।
হাতাহাতিতে অন্তত ১২ জন আহত হন। বেশ জখম হয়েছেন বর নিজেও। বিয়েবাড়ির নানা সম্পত্তিও ভাঙচুর হয়েছে। আহতদের বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। আপাতত গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, বিয়েবাড়ির আসরে তরোয়ালের মতো অস্ত্র এল কোথা থেকে?
