বাঙালির পছন্দের তালিকায় যে মাছ থাকবেই, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রকৃতিতে রয়েছে এমন এক মাছ, যাকে বাঙালি কেন, প্রাণী মাত্রেই সমঝে চলে। এই মাছের গাদা-পেটি আয়েশ করে খাওয়ার প্রশ্নই আসছে না, বরং এই মাছ দ্বারা অধ্যুষিত জলে নামলেই নিজেই শিকার হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে জীবকূলের!
পিরানহা— কম বেশি অনেকেই শুনেছে এই নাম। ১৯৭৮ সালে ‘পিরানহা’ (piranha) নামের আমেরিকান সিনেমাটি রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিল হররপ্রেমীদের মধ্যে। এরপর আরও একাধিক ভাষায় সিনেমা হয়েছে এই মাছেদের নিয়ে। হাঙরের মতো অতিকায় নয়, অথচ মানুষ কিংবা তার চাইতেও বড় প্রাণীকে ঘায়েল করতে এই একরত্তি মাছ একাই একশো! বাঙালির চোখে খানিকটা ভোলা মাছের মতো দেখতে লাগতে পারে পিরানহাকে। কিন্তু বাইরের রূপে ভুললেই সাক্ষাৎ যমদর্শনের সম্ভাবনা! হাতের মুঠোয় ধরা যায়, এমন ছোট মাছটির মুখের ভিতর তাকালে, বুকের রক্ত হিম হতে বাধ্য। এক-এক পাটিতে রয়েছে হাজার হাজার সূক্ষ্ম ব্লেডের মতো দাঁত!
একাধিক ভাষায় সিনেমা হয়েছে এই মাছেদের নিয়ে
পিরানহার চোয়াল এতটাই শক্ত যে, একবার শিকারের শরীরের অংশ কামড়ে ধরলে, তা ছাড়ানো অসম্ভব। প্রত্যঙ্গটি কেটে দেহ থেকে আলাদা হয়ে যাবে, তবু পিরানহার মুখ থেকে ছাড়ানো সম্ভব হবে না! তবে খাদ্যের প্রয়োজন না হলে, সচরাচর আক্রমণ করে না এই মাছ। করতে পারে, যদি অপরদিকে থাকা প্রাণীটির থেকে কোনওরকম ক্ষতির আশঙ্কা হয়। জলের মধ্যে হওয়া ভাইব্রেশনের উপর ভরসা করে তারা বোঝে, শিকার ঠিক কোন অংশে রয়েছে জলের। জীববিজ্ঞানীরা বলেন, পিরানহা চাইলে নাকি হাড় সমেত কামড়ে ভাঙতে পারে দেহের অঙ্গ!
দক্ষিণ আমেরিকার নদীতে দেখা মেলে এই মাছের, সাধারণত ঝাঁক বেঁধে এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাত্রা করে এরা। অর্থাৎ এদের সঙ্গে মুখোমুখি হলে, একেবারে একগুচ্ছ মাছের মুখে পড়তে হয়! প্রায় দশগুণ বড় আকারের প্রাণীকেও দলবদ্ধভাবে ধরাশায়ী করে পিরানহা। কোনও প্রাণীকে শিকার করবে ভাবলে, সময় নিয়ে টার্গেট করে না, বরং সে বুঝে উঠবার আগেই মুহূর্তের মধ্যে আক্রমণ হানে এই মাছ। চারিদিক থেকে ছেঁকে ধরলে কোনওভাবেই আর পালাতে পারে না শিকার। তবে সময়ে সময়ে ফল, জলজ উদ্ভিদ অথবা জলজ পোকা খেয়েও থাকে।
বাঙালির চোখে খানিকটা ভোলা মাছের মতো লাগতে পারে পিরানহাকে
যদিও বর্তমানে দূষণের কারণে দ্রুত কলুষিত হচ্ছে নদী-জলাশয়। ফলে ধীরে ধীরে কোণঠাঁসা হচ্ছে পিরানহারা। তাদের অবাধ যাতায়াতের সুযোগ কমছে। অর্থাৎ এ কথা বললে ভুল হয় না যে কোনও প্রাণী যত ভয়াবহই হোক না কেন, মানুষের সামনে ক্ষমতা হারিয়ে লুপ্তির পথে হাঁটতেই হয়!
