সোমবার বৃষ্টিতে প্রবল দুর্যোগের সাক্ষী হয়েছে কলকাতার বেশ কিছু অঞ্চল। ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গও। আগামিদিনেও বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে একেবারে উলটো ছবি অন্ধ্রপ্রদেশে। খরায় ওষ্ঠাগত জনজীবন। আর সেই 'বিপদ' থেকে রক্ষা পেতে রাজ্যের অনন্তপুর জেলার মানুষকে দেখা গেল ব্যাঙের বিয়ে দিতে!
অন্ধ্রপ্রদেশের জেলাগুলিতে পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। এই ভরা বর্ষাতেও বৃষ্টির দেখাই মিলছে না সেভাবে। এদিকে ফসল বাঁচাতে মরিয়া কৃষকরা। আর তাই শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ও বিশ্বাসকে সঙ্গী করে ব্যাঙের বিয়ে দিতেও দেখা গিয়েছে তাঁদের। যা, পরিস্থিতির অসহায়তাকেই প্রকট করছে। বলে রাখা ভালো, প্রাচীনকাল থেকেই এদেশে বৃষ্টির দেবতা বরুণকে সন্তুষ্ট করার জন্য ব্যাঙের বিয়ে দেওয়ার প্রচলন রয়েছে। আর সেজন্য রবিবার নিকটবর্তী পুকুর থেকে দু'টি ব্যাঙ ধরে তাদের হলুদ-জাফরান দিয়ে সাজানো হয়। ধুমধাম করে সম্পন্ন হয় বিয়ের অনুষ্ঠান। দেখা যায়, বিয়ের পর ব্যাঙগুলোকে ঝুড়িতে বসিয়ে মিছিল করে গ্রামের মধ্যে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সঙ্গে চলছিল ঢোল বাজানো। 'অপ্পাবুভা.. আম্মা বুভ্ভা' স্লোগান দিতে দিতে শিশুরা ঝুড়ি বয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। আর মহিলাদের দেখা যায় বৃষ্টির জন্য প্রতীকী প্রার্থনা করতে মিছিলের পথে জল ঢেলে দিতে। দোরে দোরে ঘুরে অনুষ্ঠানের আয়োজনের জন্য চাঁদাও সংগ্রহ করেন তাঁরা।
এখানেই শেষ নয়। একটি গাধাকে নিয়ে বের করা হয় 'বাসুদেব শোভাযাত্রা'। স্থানীয় বিশ্বাস, এইভাবে ব্যাঙের বিয়ে ও গাধার শোভাযাত্রা করলে সেখানে বৃষ্টি হয়। তবে আয়োজকরা জানিয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন ব্যাঙগুলিকে সযত্নে রাখা হয়েছিল। এবং অনুষ্ঠানের শেষে আবার তাদের প্রকৃতির কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, রাজ্যের অন্য জেলার মতো অনন্তপুরেও চলছে খরার দাপট। কৃষকরা চাতকের মতো তাকিয়ে রয়েছেন আকাশের দিকে। বোরামপল্লি গ্রামের এক কৃষক বলছেন, ''আমরা প্রায় এক মাস আগে আমাদের ফসল বুনেছি, কিন্তু এক ফোঁটা বৃষ্টিও হয়নি। মাটিতে আর্দ্রতা নেই, এবং যে মেঘ তৈরি হয় তাও বাতাসে উড়ে যাচ্ছে। আমরা অসহায় বোধ করছি। তাই এই সিদ্ধান্ত।''
