ব্যাংকক থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূর। ফেতচাবুরি প্রদেশের দন ইয়াই থং নামের এক শান্ত গ্রাম। সময় যেন এখানে থমকে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগের কথা। চাষ করতে গিয়ে লাঙলের ফলায় উঠে এসেছিল প্রাচীন ব্রোঞ্জের টুকরো। সেই সূত্র ধরেই শুরু হয় খননকার্য। আর তাতেই খুলল ইতিহাসের এক রোমাঞ্চকর অধ্যায়। মাটির গভীর থেকে পাওয়া গেল দু'হাজার বছর পুরোনো দুটি সোনার আংটি। একটি কঙ্কালের আঙুলেই জড়ানো ছিল সেগুলি। থাইল্যান্ডের ফাইন আর্টস ডিপার্টমেন্টের এই আবিষ্কার প্রত্নতাত্ত্বিক মহলে সম্প্রতি শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এই প্রত্নস্থলটি থাইল্যান্ডের প্রাগৈতিহাসিক লৌহ যুগের। প্রায় দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার বছর আগের সময়স্রোতে এখানে বয়েছিল জীবন। জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আংটি দুটির মধ্যে একটি একেবারেই সাদামাটা। তবে অন্য আংটিটি দেখে চোখ কপালে উঠেছে গবেষকদের। কারণ, তাতে খোদাই রয়েছে প্রাচীন ভারতের ব্রাহ্মী লিপি। প্রাথমিক পরীক্ষার পর জানা যাচ্ছে, সেখানে লেখা রয়েছে ‘পুসরাখিতাসা’। প্রাচীন ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুযায়ী এর অর্থ, ‘যিনি পুষ্যা নক্ষত্র দ্বারা সুরক্ষিত’। জ্যোতিষশাস্ত্রে এই পুষ্যা নক্ষত্রকে অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আংটির মালিক ছিলেন প্রাচীন ভারতের বৈশ্য সম্প্রদায়ের কোনও এক ধনী ব্যবসায়ী। সমুদ্র পেরিয়ে দূরদেশে বাণিজ্যে এসেছিলেন তিনি। গত ফেব্রুয়ারি থেকে এই এলাকায় এখনও পর্যন্ত ৮টি মানুষের কঙ্কাল, ব্রোঞ্জ, সোনার গয়না এবং মৃৎপাত্র মিলেছে। যা দেখে মনে করা হচ্ছে, এটি উচ্চবিত্ত বা অভিজাত শ্রেণির সমাধিক্ষেত্রও হতে পারে। আগামী এক মাসের মধ্যে এই খননকার্য শেষ হলে সমস্ত অমূল্য সম্পদ সাধারণের দেখার জন্য প্রদর্শিত হবে।
অন্য দিকে, ইতিহাস ছুঁয়ে দেখার এই রোমাঞ্চকর আবহ তৈরি হয়েছে ভারতের বুকেও। সিন্ধু সভ্যতার অন্যতম বৃহত্তম কেন্দ্র হরিয়ানার রাখিগড়ির প্রাচীন কঙ্কালাবশেষ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন দফার চুলচেরা তদারকি। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া এই কঙ্কালগুলি তুলে দিয়েছে অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার হাতে। প্রায় ৫৫০ হেক্টর এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রাখিগড়ি ছিল হরপ্পা সংস্কৃতির এক বিশাল নগরী। উন্নত জলনিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে কারুশিল্পের কর্মশালা, সবেরই প্রমাণ মিলেছে এখানে। এবার উন্নত বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সেই প্রাচীন মানুষের ডিএনএ এবং জীবনযাত্রা খুঁটিয়ে দেখা হবে। থাইল্যান্ডের ধানখেত থেকে রাখিগড়ির মাটি। হাজার হাজার বছর আগের ইতিহাস যেন আজ এক সুতোয় বেঁধে দিল দুই দেশকে।
