কবিরা মেঘ দেখতে ভালোবাসেন। এমনকী মেঘের মধ্যে ভেসে বেড়াতেও তাঁদের কোনও আপত্তি নেই। কল্পনাতে এ কাজ কবিরা প্রায়শ করেন। কিন্তু তাতে বোনের মোষটিও নড়ে না।
গেরস্তরা ঠিক এর উলটো! পকেটের রেস্ত খসানোর ভয়ে পাহাড়মুখো হতে চায় না কিছুতেই। তবে, পাহাড়ে শুয়ে-বসে মেঘ দেখার জন্যই গুনে গুনে যদি মেলে মোটা অঙ্কের টাকা? কী ইয়ার্কি মনে হচ্ছে? আজ্ঞে না! খামোখা আপনার সঙ্গে মশকরা করতে যাব কেন মশাই! ঠিক এমনটাই ঘটেছে চিনের এক ২৩ বয়সী তরুণের সঙ্গে। শুধু মেঘ দেখেই এক মাসে তিনি পকেটে পুরলেন প্রায় সাড়ে ৮ লক্ষ টাকা!
কাজটা ভারি অদ্ভুত। তাই না? কাজ বলতে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পাহাড়ি মেঘের আনাগোনা দেখা। আর প্রকৃতির এই খেয়ালিপনা ক্যামেরাবন্দি করাই ওই তরুণের চাকরি। চিনের হেনান প্রদেশের বিখ্যাত লাওজুন পাহাড় পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় স্থান। দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরনো এই ঐতিহাসিক পাহাড়ি এলাকা ‘মেঘের সমুদ্র’ নামে পরিচিত। সম্প্রতি এই পাহাড়ের সৌন্দর্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নেয় পর্যটন কর্তৃপক্ষ। তৈরি করা হয় ‘ক্লাউডস্কেপ অবজারভার’ বা মেঘ পরিদর্শকের নয়া পদ।
সোশাল মিডিয়ায় এই পদের খবর চাউর হতেই শুরু হয় কাড়াকাড়ি। মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদন জমা পড়ে সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি। কড়া প্রতিযোগিতার জল গড়িয়ে অবশেষে কপাল খোলে ২৩ বছর বয়সী ভ্লগার লি সিচেনের। @xiaozao নামে পরিচিত লি-কে ১৬ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত পাহাড়ের চূড়ায় থাকার সুযোগ পান। তাঁর কাজ ছিল রোজকার বদলাতে থাকা মেঘ, কুয়াশা ও সূর্যোদয়ের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করা। একই সঙ্গে পর্যটনকেন্দ্রের নিজস্ব সোশাল সাইটে সেইসব ভিডিও পোস্ট করা।
শুনতে স্বপ্নের মতো মনে হলেও, কাজটা আদৌ সহজ ছিল না। মেঘ তো আর ঘড়ির কাঁটা মেনে আসে না। তাই ভোর পাঁচটা থেকে ক্যামেরা হাতে তৈরি থাকতে হত লি-কে। নিখুঁত ভিডিও ও ছবি তোলার জন্য শিখতে হয়েছে ড্রোন চালনা। এমনকী ভিডিও এডিটিংয়ের কাজও। মেঘের দেখা না মিললে উদ্বেগে কাটত সময়। তবে, সব বাধা পেরিয়ে এক মাসেই তিনি পেয়ে গেলেন চিনের ৬০ হাজার ইউয়ান, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৮.৫ লাখ টাকা।
অভিজ্ঞ পর্যটন কর্মকর্তাদের মতে, পাহড়কে ওই তরুণ এক কবির চোখে খুঁজেছেন। দেখেছেন মেঘেদের নিজস্ব জগৎ। আর এই দেখার কাজে তিনি সফল। কাজ শেষে লি সিচেন জানিয়েছেন, সময়টা ডানায় ভর দিয়ে উড়ে গেল! পাহাড়ের কোলে মেঘ চেনার এই অদ্ভূত অভিজ্ঞতা অবাক করেছে গোটা বিশ্বকে।
