ভোট মিটতে ফের রঙ্গে ভরে উঠেছে বঙ্গ রাজনীতি। দলীয় নেতাদের 'কলকাঠি'তে এবারের বিধানসভা ভোটের টিকিট মেলেনি। তারপর থেকে ক্ষোভ জমেছিল মনে। তখনই প্রার্থীদের ‘পরাজয়’ চেয়ে তাঁদের নামে দেবতার কাছে ছাগল মানত করেছিলেন প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। ছাব্বিশের ভোটে সেই তিনজনই পরাজিত হয়েছেন। তাতে মনস্কামনা পূরণ হয়েছে তপনবাবুর। বুধবার তাই জামালপুরের বুড়োরাজ মন্দিরে পুজো দিয়ে ছাগস উৎসর্গ করে বলির ব্যবস্থা করলেন তিনি। তপনবাবুর এমন কাণ্ডে বুধবার অনেকেরই চোখ কপালে। এখানেই শেষ নয়, দলীয় কার্যালয় থেকে তৃণমূলের প্রতীক মুছে দিয়েছেন তিনি। আভাস দিয়েছেন, অন্য দলে যোগ দেবেন।
পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় এবারের ভোটে টিকিট পাননি। তার বদলে কলকাতা পুরসভার দলীয় কাউন্সিলর বসুন্ধরা গোস্বামীকে এই কেন্দ্রে প্রার্থী দেয় দল। তাতেই ক্ষুব্ধ তপনবাবু দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। এবারের ভোটে পূর্ব বর্ধমান জেলা জুড়ে ভরাডুবি হয়েছে তৃণমূলের। একুশের নির্বাচনে যেখানে ১৬টির মধ্যে বিজেপির আসন সংখ্যা ছিল শূন্য, সেখানে ছাব্বিশে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪, মাত্র দু'টি আসন টিকিয়ে রাখতে পেরেছে তৃণমূল। আর দলের এই ব্যর্থতায় খুশি তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক।
বুধবার জেলার বিদায়ী মন্ত্রী, জেলা পর্যবেক্ষক ও এক নেতার নামে তিনটি ছাগল বলি দিলেন তপনবাবু। বুধবার পূর্বস্থলীর জামালপুরের বুড়োরাজ মন্দিরে তিনটি ছাগলের গলায় তিন তৃণমূল নেতার নাম লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে সদলবলে যান। পুজো দিয়ে তিনটি ছাগলকে উৎসর্গ করে বলির আয়োজন করেন তপন। তাঁর কথায়, “আমাকে টিকিট না দেওয়ার জন্য আমি বাবা বুড়োরাজের কাছে মানত করেছিলাম। যে তিন নেতা কলকাঠি নেড়েছিল, তাদের নামে তিনটি ছাগ উৎসর্গ করলাম।” আরও অভিযোগ, “আমাকে টিকিট দেওয়ার বিনিময়ে ২০ লক্ষ টাকা চেয়েছিল ভোটকুশলী সংস্থা। দিতে পারব না বলায় টিকিটও পেলাম না।”
পূর্বস্থলী উত্তরে বিজেপির কাছে ৩০,২২৬ ভোটে পরাজিত হয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী বসুন্ধরা গোস্বামী। তা নিয়ে তপনবাবুর মন্তব্য, “বহু কান্না, ঘাম, রক্তের ফসল তৃণমূল দলটাকে শেষ করার পিছনে জেলা ও রাজ্যস্তরে কয়েকজনের নেতা দায়ী। ক্ষোভে-দুঃখে চেয়েছিলাম, দলটা উচ্ছন্নে যাক, হেরে যাক। তাই মানত করেছিলাম।” তবে তিনি যে অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন সে বিষয়ে জানালেও স্পষ্ট কিছু বলতে চাননি। মন্দিরের সেবাইত বিশ্বনাথ বন্দোপাধ্যায় বলেন, “রাজনৈতিক মানত পূরণে এভাবে ছাগল উৎসর্গ করে বলি দেওয়ার ঘটনা এই মন্দিরের বলিদানের ইতিহাসে প্রথম।”
