Advertisement
মশার জ্বালায় নাজেহাল? শ্বাসকষ্টের আশঙ্কা উড়িয়ে ধূপ-কয়েল ছাড়াই ৭ উপায়ে করুন বাজিমাত
মশা তাড়ানোর ধূপ বা তেলের ধোঁয়া শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা এবং ফুসফুসের জটিলতা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বদ্ধ ঘরে কয়েল জ্বালিয়ে রাখা মানে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ফুসফুসে নেওয়া। তাই প্রাকৃতিক উপাদানে ঘর সুরক্ষার অভ্যাস তৈরি করা দরকার। কীভাবে করবেন?
গরমের দাপট বাড়তেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মশার অত্যাচার। শোয়ার ঘর থেকে রান্নাঘর, সর্বত্রই তাদের অবাধ বিচরণ। মশা তাড়াতে অনেকেই রাসায়নিক কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেন, যা অজান্তেই শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করছে। তাই কৃত্রিম সুগন্ধি ত্যাগ করে প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়ানোই শ্রেয়। সুস্থ থাকতে এবং ঘরকে সুরক্ষিত রাখতে মানতে হবে কিছু অব্যর্থ টোটকা।
মশা তাড়ানোর ধূপ বা তেলের ধোঁয়া শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি দীর্ঘস্থায়ী কাশির সমস্যা এবং ফুসফুসের জটিলতা তৈরি করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বদ্ধ ঘরে কয়েল জ্বালিয়ে রাখা মানে বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড ফুসফুসে নেওয়া। তাই প্রাকৃতিক উপাদানে ঘর সুরক্ষার অভ্যাস তৈরি করা দরকার।
মশা তাড়ানোর আগে প্রয়োজন মশার প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস করা। রান্নাঘর বা বাথরুমের কোণায় জল জমতে দেবেন না। প্রতিদিন নর্দমা ও অন্ধকার জায়গাগুলো পরিষ্কার রাখুন। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মশা দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে, যা ডেঙ্গু বা ম্যালেরিয়ার মতো রোগ ছড়ায়। ঘর পরিষ্কার থাকলে প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলো অনেক বেশি কার্যকর হয়।
রসুনের কড়া গন্ধ মশা সহ্য করতে পারে না। কয়েক কোয়া রসুন থেঁতো করে জলে ফুটিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন। ঠান্ডা হলে সেই জল স্প্রে বোতলে ভরে ঘরের কোণায় ছিটিয়ে দিন। এটি ব্যবহারে রান্নাঘর ও বাথরুম মশা-মাছি মুক্ত থাকবে। রসুনের গন্ধ শুকিয়ে গেলে মশা আর প্রবেশ করতে পারে না।
পিপারমিন্ট অয়েলের তীব্র গন্ধ মশা তাড়াতে খুবই উপযোগী। এক কাপ জলে কয়েক ফোঁটা এই এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে নিন। স্প্রে বোতলে ঝাঁকিয়ে নিয়ে জানালার পর্দা ও ঘরের কোণায় ব্যবহার করুন। এটি ব্যবহারের ফলে ঘর যেমন সুগন্ধে ভরে উঠবে, তেমনই মশার উপদ্রব এক নিমিষেই অনেকটা কমে যাবে।
লেবু ও লবঙ্গ মশা তাড়ানোর প্রাচীন ও কার্যকরী উপায়। একটি লেবু অর্ধেক করে কেটে তার ওপর কয়েকটা লবঙ্গ গেঁথে দিন। ঘরের জানালার কাছে বা কোণায় এটি রেখে দিলে মশা কাছে আসে না। লেবুর অ্যাসিডিক গন্ধ ও লবঙ্গের সুবাসের মিশেল মশার স্নায়ুর ওপর জোরালো প্রভাব ফেলে।
অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণের পাশাপাশি টি-ট্রি অয়েল মশা তাড়াতেও সমান কার্যকরী। সামান্য জলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা এই তেল মিশিয়ে স্প্রে করুন। ত্বকের সুরক্ষাতেও অনেকে এটি মেখে থাকেন। এর তীব্র গন্ধে মশা তো পালাবেই, পাশাপাশি ঘরের জীবাণুও দূর হবে। এই তেল প্রাকৃতিক হওয়ায় স্বাস্থ্যের কোনও ক্ষতি হওয়ার ভয় থাকে না।
নিম পাতা বা নিম তেল যুগ যুগ ধরে মশা তাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে। নিমের গন্ধে মশা ও ক্ষতিকারক পোকা দূরে থাকে। নারকেল তেলের সঙ্গে সামান্য নিম তেল মিশিয়ে প্রদীপের মতো জ্বালিয়ে রাখতে পারেন। এতে ঘরের পরিবেশ বিশুদ্ধ হয় এবং মশার প্রকোপ কমে। নিম তেল সরাসরি শরীরের খোলা অংশেও মাখা যায়।
লেবু ও ইউক্যালিপটাস তেলের মিশ্রণ মশা তাড়াতে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। এই মিশ্রণটি স্প্রে করলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মশা ঘরের ধারেকাছে ঘেঁষে না। এটি প্রাকৃতিক হওয়ায় অ্যালার্জির সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। বাজারে পাওয়া কৃত্রিম স্প্রের চেয়ে এটি অনেক বেশি নিরাপদ ও সাশ্রয়ী বিকল্প হিসেবে গণ্য হয়।
ঘর মশামুক্ত রাখতে কর্পূর ব্যবহার করে দেখতে পারেন। একটি ছোট পাত্রে জল নিয়ে তাতে দুটি কর্পূরের ট্যাবলেট ফেলে ঘরের কোণায় রেখে দিন। কর্পূর বাতাসের সংস্পর্শে এলে যে গন্ধ তৈরি হয়, তা মশা তাড়াতে সাহায্য করে। এই পদ্ধতিটি প্রয়োগ করা সহজ এবং এতে কোনও প্রকার ধোঁয়াও উৎপন্ন হয় না।
ঘরোয়া টোটকা ব্যবহারের পাশাপাশি রাতে অবশ্যই মশারি ব্যবহার করুন। মশারি টাঙিয়ে ঘুমানো হল সবচেয়ে নিরাপদ এবং চিরাচরিত অভ্যাস। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে জরুরি। ঘরোয়া প্রতিকারগুলো মশা দূরে রাখলেও, নিরুপদ্রব ঘুমের জন্য মশারির বিকল্প নেই। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি এই সাবধানতাগুলো সুস্থ থাকতে সাহায্য করবে।
Published By: Buddhadeb HalderPosted: 09:02 PM May 07, 2026Updated: 09:02 PM May 07, 2026
Sangbad Pratidin News App
খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ
