ফ্রিজে বরফ জমেনি? অ্যাঁ, বলেন কি! এর জন্য বউয়ের সঙ্গে লড়াই? মহা মুশকিল! না, মানে একটু রাগ সামলান। নিজের রাগ সামলাতে পারছেন না কিছুতেই? তাহলে বরং একটা গল্প বলি। না, গল্প নয়। সত্যি ঘটনা। এই বিশ্বে রয়েছে এমনও এক স্থান, যেখানে চারপাশে হাজার হাজার মাইল শুধু বরফ আর বরফ। ঠান্ডায় যেখানে থার্মোমিটারের পারদও কাঁপতে কাঁপতে কেঁদে ফেলে। অথচ, তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রিতে নেমে এলেও সেখানকার এক পুকুরের জল তরলই থাকে। ভাবছেন বানিয়ে বলছি? একেবারেই নয়। পরম সত্য। হিমশীতল স্থানে থাকা এই পুকুরটির জল কিছুতেই জমে বরফ হয় না।
অ্যান্টার্কটিকা (Antarctica) বা দক্ষিণ মেরুর কথাই ধরা যাক। চারিদিকে তাকালে চোখ ধাঁধানো সাদা বরফের রাজ্য। গাছ নেই। মানুষ নেই। আছে শুধু একরাশ হিমশীতল শূন্যতা। এমনকী সমুদ্রের জলও সেখানে ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত জমে যেন একেকটা অতিকায় পাথরের স্ল্যাব হয়ে বসে থাকে। কিন্তু সেই কঠিন হিমসাম্রাজ্যের বুকেও এক অদ্ভুত নাছোড়বান্দা জলাশয় ডাঁট মেরে টিকে রয়েছে। বরফ হবে? কস্মিনকালেও না!
দঁ জুয়ান পন্ড। ছবি: সংগৃহীত
স্থানটি হল কুমেরুর ভিক্টোরিয়া ল্যান্ডের রাইট উপত্যকা। আর এই কিম্ভূত জলাশয়টির নাম ‘দঁ জুয়ান পন্ড’। খুব বড় কিছু ভেবে বসবেন না যেন। আকারে এটি একটা ছোট্ট পুকুরের চেয়ে বেশি কিছু নয়। গভীরতা? সেও প্রায় জল মেপে চলার মতো সামান্য! অথচ তার তেজ কিন্তু পাহাড় প্রমাণ। হাড়কাঁপানো ঠান্ডাতেও সে একদম তরল। বহাল তবিয়তে টলটল।
রহস্যটা কোথায়? বিজ্ঞানীরা অঙ্ক কষে আসল খেলাটা অবিশ্যি ধরে ফেলেছেন। এই পুকুরের জলেই রয়েছে তার ব্যাখ্যা। পুকুরটির চারপাশে জমিয়ে বসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড ও সোডিয়াম ক্লোরাইডের লবণ। জল তো নয়, যেন গাঢ় নুনের খনি! অ্যান্টার্কটিকার সমস্ত হ্রদ বা পুকুরের মধ্যে এর জলই সবচেয়ে বেশি নোনতা। এই অতিরিক্ত লবণের ঠেলাতেই শত চেষ্টাতে মাইনাস ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও জল কিছুতেই জমাট বাঁধে না।
বিজ্ঞানীরা ঘুরে ঘুরে দেখছেন আর তাজ্জব বনে যাচ্ছেন। আর আপনি কিনা আপনার ফ্রিজে বরফ জমেনি বলে বউয়ের সঙ্গে ঝগড়া জুড়েছেন? ছ্যা!
