রেস্তরাঁ মানেই কেবল খাওয়াটুকু নয়। সেখানকার পরিবেশ, প্রিয় মানুষের সঙ্গ- সব মিলিয়ে সম্পূর্ণ একটা অভিজ্ঞতা। তাই নানা ধরনের থিমড রেস্তরাঁর রমরমা বেড়ে চলেছে। কিন্তু মার্কিন মুলুকের এক রেস্তরাঁ রয়েছে, সেটা যেন আরও এক কাঠি এগিয়ে রয়েছে চমকের ক্ষেত্রে! কেননা এখানে আসতে হবে জন্মদিনের পোশাকে! হ্যাঁ, সেটাই দস্তুর এখানে। অর্থাৎ আপনি নগ্ন হয়ে খাচ্ছেন, সঙ্গে রয়েছেন আরও নানা নগ্ন নারী-পুরুষেরা!
ফ্লোরিডায় রয়েছে C.L.A.S.S. সৈরি স্টিকহাউস নামের এমনই এক রেস্তরাঁ। প্রতি মাসের প্রথম সোমবার সেখানে নগ্ন হয়ে খাবার খান পনেরো থেকে কুড়ি জন!
ধরা যাক, আপনি সেখানে যাচ্ছেন। আপনাকে দরজা খুলে স্বাগত জানাবেন একজন কর্মী। তিনিও সম্পূর্ণ নগ্ন হয়েই আপনার সামনে দাঁড়াবেন। উদ্দেশ্য, যাতে আপনিও স্বচ্ছন্দে নগ্ন হতে পারেন। এবার আপনার হাতে তিনি তুলে দেবেন তোয়ালে। ধীরে ধীরে নিজের পোশাক খুলতে পারবেন আপনি। কোনও তাড়া নেই। যতটা সময় দিতে চান দিন। এমনকী, অনেকে অর্ধনগ্ন হয়েই থাকেন। তাতেও আপত্তি নেই। আপনাকে দেওয়া হবে একটি নরম তোয়ালে, সিট কভার। এখানে বলে রাখা ভালো, স্বাস্থ্য সচেতনতার দিকে আগাগোড়াই নজর রাখা হয়। সেই কারণেই এখানকার কর্মীরা কেউই পোশাক খুলে পরিবেশন করেন না। কেবলই আপনি ও আপনার মতো যাঁরা অতিথি, তাঁরাই নগ্ন হয়ে বসে খাবার খেতে পারবেন। খরচও রীতিমতো চোখ কপালে তোলার মতো। ভারতীয় মুদ্রায় পুরুষ প্রতি দিতে হবে ২৩ হাজার ৮৪২ টাকা। মহিলাদের ক্ষেত্রে তা কমে দাঁড়াবে ১৪ হাজার ৩০০ টাকা। যুগল প্রতি ২৮ হাজার ৫৭৫ টাকা। আর খাওয়া দাওয়া? রীতিমতো ফাইভ কোর্স মিল, শেষে মিলবে শ্যাম্পেন টোস্ট।
কিন্তু নগ্নতাকে এভাবে উদযাপনের কী অর্থ? আসলে নগ্নতা মানেই অশ্লীলতা, সবক্ষেত্রে তা সত্যি নয়। যতক্ষণ না বিষয়টা 'ভালগার' হচ্ছে, নগ্নতাও হতে পারে নান্দনিকতার এক অন্যতর প্রকাশ। মনে করা হয়, প্রকৃতির সঙ্গে জুড়ে থাকা, পোশাকের 'কবল' থেকে মুক্তি পাওয়ায় একদম ফুরফুরে থাকা, এগুলো নগ্নতার অন্তর্নিহিত দর্শন। আর এর সঙ্গে সরাসরি কোনও সম্পর্ক থাকে না যৌনতার। তবে এই ধরনের রেস্তরাঁয় খেতে এলে আরও একটা চিন্তাও আপনাকে জ্বালাবে না। সেটা হল- 'কী পরে যাব?'
