'এক পলকে একটু দেখা..'। আর এই একটু দেখাতেই ঠিক কী কী ঘটতে পারে? তার আন্দাজ আছে কি? মন কতটুকু দিতে বা নিতে পারবেন তা নিশ্চিত নয়, তবে প্রথম ডেটিংয়ে একেবারে ২০,৫০০ টাকার ডুবজল! এ আঘাত ধম্মে সইবে? ডেটিং অ্যাপে প্রথম আলাপ। আর তা সম্বল করেই প্রথম দেখা করতে যাওয়া। কিন্তু সেই দেখা করতে যাওয়াই যে কাল হয়ে দাঁড়াবে তা বোধহয় স্বপ্নেও ভাবেননি দিল্লির এই যুবক।
গল্পটা প্রেমের, কিন্তু পরিণতি যেন হরর থ্রিলার! ডেটিং অ্যাপে আলাপ। কথা এগোতেই ডেটে যাওয়ার পরিকল্পনা। মনখোলা মেজাজে খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডা জমে উঠেছিল ভালোই। বাধ সাধল ক্যাফের ওয়েটার বিলটা সামনে রাখতেই। ২০ হাজার ৫০০ টাকা! হিসেব দেখেই চোখ ছানাবড়া যুবকের। তবে নাটক বাকি ছিল তখনও। ঠিক সেই সময় ‘একটু বাথরুম থেকে আসছি’ বলে পালিয়ে গেলেন তরুণী। তারপর আর তাঁর দেখা মেলেনি! অর্ধেক বিল মেটানো তো দূর, পাত্তাই পাওয়া গেল না প্রেমিকার। প্রেমিকের কাঁধে পুরোটাই চাপিয়ে তিনি দে ছুট। নেটপাড়ায় এই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন দিল্লির যুবক। জানালেন, টাকাটা বড় কথা নয়। কিন্তু এই নিখুঁত চম্পট দেওয়ার কৌশল দেখে তিনি রীতিমতো হতবাক।
ডেটিং অ্যাপের আড়ালে ‘বিল স্ক্যাম’?
পোস্টটি ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হতেই উঠেছে নানা বিতর্ক। ওয়াকিবহাল নেটিজেনদের একাংশ স্পষ্ট জানাচ্ছেন, এটি কোনও কাকতালীয় ঘটনা নয়। বরং দিল্লি-এনসিআর এলাকায় এটি এখন অতি পরিচিত এক ফাঁদ! বিশেষ করে বিলের অঙ্কটা যখনই কুড়ি হাজারের কাছাকাছি পৌঁছয়, তখনই ঘটনার সাজানো স্ক্রিপ্ট ধরা পড়ে যায়। এমনটা নাকি অতীতেও ঘটেছে। তাই এই ঘটনায় অভিজ্ঞ নেটিজেনরা আপাতত ‘বিল স্ক্যাম’-এর গন্ধ পেয়েছেন। অতীতেও এই ধরনের চক্রের পর্দাফাঁস করেছে দিল্লি পুলিশ। ক্যাফে কর্তৃপক্ষ এবং ওই তরুণীদের অলিখিত আঁতাতেই নাকি এই কারসাজির রমরমা। তাই প্রথম দেখা করতে গেলে একটু চোখ-কান খোলা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন ওয়াকিবহাল মহল। না হলে প্রেমের ডেট যে কখন পকেটের ডেথ ডেকে আনবে, তা বলা মুশকিল!
