আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের মুখ উজ্জ্বল করার পরেও চরম অর্থাভাবের মুখোমুখি আসানসোলের অনামিকা মুখোপাধ্যায়। এশিয়া-প্যাসিফিক পাওয়ার-লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপে ৫২ কেজি বিভাগে মোট ৩২০ কেজি ওজন তুলে রুপো জিতেছেন এই বঙ্গকন্যা। আগামী সেপ্টেম্বরে কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে চলা কমনওয়েলথ পাওয়ার-লিফটিং চ্যাম্পিয়নশিপেও খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন তিনি।
সাফল্য মিললেও তাঁর ঝুলিতে এসেছে কেবল অনিশ্চয়তা। কারণ কানাডা যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় চার লক্ষ টাকা জোগাড় করা তাঁর পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আসানসোলের মহিশিলার বাসিন্দা অনামিকা বাংলায় স্নাতক। চার বছর আগে কেবল ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে জিমে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে কোচের উৎসাহে পাওয়ার-লিফটিং শুরু করেন তিনি।
একের পর এক জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় সোনা জিতে তিনি প্রমাণ করেন নিজের প্রতিভা। অনামিকার বাবা সুকুমার মুখোপাধ্যায় নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন এবং মা-ও যুক্ত একটি অস্থায়ী কাজের সঙ্গে। ঋণের টাকা আর কিছু শুভানুধ্যায়ীদের সহায়তায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা জোগাড় করে অনামিকা দক্ষিণ আফ্রিকায় এশিয়া-প্যাসিফিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু এবার আর কোনও উপায় খুঁজে পাচ্ছেন না তিনি ও তাঁর পরিবার।
রুপোলি সাফল্য তাঁকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিলেও আর্থিক অনিশ্চয়তাই এখন বড় বাধা। অনামিকার দাবি, ওপেন বিভাগে প্রতিযোগিতা করায় কোনও সরকারি আর্থিক সহায়তা পাননি তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকায় খেলতে যেতে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। যার বেশির ভাগই জোগাড় করতে হয়েছে ঋণ এবং কয়েকজন শুভানুধ্যায়ীর সাহায্যে। তাঁর কথায়, এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সামর্থ্য আর নেই।
