মাইন বিস্ফোরণে হারিয়েছিল পা। সেই সোমন রানাই কমনওয়েলথ (Commonwealth Games 2026) শটপুটে সোনা এনে দিলেন ভারতকে। একই ইভেন্টে রুপো জিতলেন স্বদেশি শুভম জুয়াল। ফলে অ্যাথলেটিক্সে আরও একবার ভারতের দাপট দেখল বিশ্ব।
শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন সোমন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় তাঁর থ্রো গিয়ে পড়ে ১৩.৪০ মিটার দূরে। এই দূরত্বই বাকি প্রতিদ্বন্দ্বীদের অনেক পিছনে ফেলেন তিনি। এটাই ছিল তাঁর মরশুমের সেরা থ্রো। প্রথম প্রচেষ্টায় ১৩.৩৮ মিটার ছোড়ার পর তৃতীয় বার ফাউল করেন। তবে পরের তিনটি প্রচেষ্টায় ১৩.১৪, ১৩.১৭ এবং ১৩.১১ মিটার থ্রো করে ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন।
শুভমও লড়াই ছাড়েননি। প্রথম প্রচেষ্টায় ১৩.০৮ মিটার থ্রোয়ের পর দ্বিতীয় বার কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও তৃতীয় প্রচেষ্টায় ১৩.২৭ মিটার ছুড়ে পদকের দৌড়ে ফিরে আসেন। শেষ প্রচেষ্টায় ১৩.২৮ মিটার থ্রো করে মরশুমের সেরা পারফরম্যান্সে রুপো নিশ্চিত করেন ভারতীয় অ্যাথলিট। ব্রোঞ্জ জিতেছেন ক্যামেরুনের সেড্রিক ইদ্রিস লেকেজো আজামদজি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ১২.৫৭ মিটার থ্রো করে তৃতীয় হন তিনি।
সোমনের সাফল্যের নেপথ্য গল্প শুনলে অনেকেই অনুপ্রাণিত হবেন। মাইন বিস্ফোরণে একটি পা হারিয়েছিলেন। সেখান থেকেই শুরু দ্বিতীয় জীবনের লড়াই। সেই লড়াইয়েরই সোনালি পরিণতি কমনওয়েলথ গেমসে। পুরুষদের এফ৫৭ শটপুটে সোনা জিতে দেশকে গর্বিত করলেন সোমন। বিহারের গয়ার কৃষক পরিবারে জন্ম তাঁর। ২০০১ সালে গোরখা রাইফেলসে যোগ দেন। বক্সার হিসাবেই কেরিয়ার গড়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জম্মু-কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণরেখায় কর্তব্যরত অবস্থায় মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হন। হাঁটুর নীচ থেকে একটি পা বাদ দিতে হয়। সেখান থেকেই শুরু হয় নতুন লড়াই।
পুণের আর্টিফিশিয়াল লিম্ব সেন্টারে রিহ্যাবের সময় প্যারা অ্যাথলেটিক্সের সঙ্গে পরিচয়। ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর প্যারা অ্যাথলেটিক্স দলে যোগ দেওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। টানা দু'টি প্যারালিম্পিক্সে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২৫ সালের বিশ্ব প্যারা অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে জিতেছিলেন রুপো। এবার কমনওয়েলথ গেমসে উঠলেন সেরার মঞ্চে।
