শনিবারের শুরুটা বক্সিংয়ে জোড়া সোনা দিয়ে হয়েছিল। মহিলাদের ৫৪ কেজি বিভাগের বক্সিংয়ে সোনা জিতে ভারতের পদকভাণ্ডার সমৃদ্ধ করেছিলেন প্রীতি পওয়ার। প্রীতি জেতার কিছুক্ষণের মধ্যে ৫৭ কেজি বিভেগে সোনা জিতলেন জ্যাসমিন ল্যাম্বোরিয়াও। রাত গড়াতে গড়াতে দেশকে আরও দু'টি সোনা এনে দিলেন সাক্ষী চৌধুরী এবং প্রিয়া ঘাঙ্গাস। তাঁদের সামনে নাস্তানাবুদ হতে হল প্রতিপক্ষকে।
মহিলাদের ৫১ কেজি বিভাগে ইংল্যান্ডের রুবি হোয়াইটকে ৫-০ ব্যবধানে হারিয়ে সোনা জিতলেন সাক্ষী চৌধুরী। শুরু থেকেই রক্ষণ আঁটসাঁট করে নেমেছিলেন। রক্ষণ গুছিয়ে নিখুঁত পালটা আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখেন তিনি। প্রথম রাউন্ডে পাঁচ বিচারকের মন জিতে নেন ভারতীয় বক্সার। দ্বিতীয় রাউন্ডেও ব্যবধান বাড়ান। ঘরের দর্শকদের সমর্থন পেয়েও ম্যাচে ফিরতে পারেননি রুবি। শেষ রাউন্ডেও ভারতীয় বক্সারের সামনে কল্কে পাননি।
এর পর মহিলাদের ৬০ কেজি বিভাগে সোনা জেতেন প্রিয়া ঘাঙ্গাস। কানাডার মেরি-বাথুল আল-আহমাদিয়েহর বিরুদ্ধে শুরুটা ভালো হয়নি তাঁর। প্রথম রাউন্ড ২-৩ ব্যবধানে হারেন। সেখান থেকেই দুরন্ত প্রত্যাবর্তন। পরের দুই রাউন্ডে ছন্দে ফিরে ৪-১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেন ভারতীয় বক্সার। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের লুসি কিংস-হুইটলিকে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন তিনি।
সোনালি হাসি তখনও শেষ হয়নি। এরপর সোনা আসে অরুন্ধতী চৌধুরীর হাত ধরে। মহিলাদের ৭০ কেজি বিভাগের ফাইনালে ইংল্যান্ডের শ্যান্টেল রিডকে ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেন তিনি। তিনটি রাউন্ডেই আগ্রাসী বক্সিং উপহার দেন তিনি। চার বিচারক ভারতীয় বক্সারের পক্ষেই রায় দেন। একতরফা জয়ে ভারতীয় বক্সিংয়ের শক্তির আরও একবার প্রমাণ দিলেন তিনি। এই তিনটি সোনা মিলিয়ে কমনওয়েলথ গেমসে বক্সিংয়ে ভারতের সোনার সংখ্যা দাঁড়াল ছয়। এর আগে সোনা জিতেছিলেন প্রীতি পওয়ার, জ্যাসমিন ল্যাম্বোরিয়া। জাদুমণি সিং পেয়েছেন রুপো। তবে কমনওয়েলথ গেমসে সোনার স্বপ্ন অধরাই রইল লভলিনা বরগোঁহাইয়ের। মহিলাদের ৭৫ কেজি বিভাগের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার এমা-সু গ্রিনট্রির কাছে ৪-১ ব্যবধানে পরাস্ত হলেন তারকা বক্সারকে। ফলে রুপো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হল টোকিয়ো অলিম্পিকের পদকজয়ীকে। আপাতত ১১ সোনা, ১৬ রুপো, ৮ ব্রোঞ্জ-সহ ৩৫ পদক নিয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে এসেছে ভারত।
