ধোঁয়াশা ও দূষণে দমবন্ধ পরিস্থিতি দিল্লির। স্বাভাবিক জনজীবনেও এর প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামের অস্বাস্থ্যকর এবং দূষিত পরিবেশ নিয়ে তোপ দেগেছিলেন বিশ্বের দু'নম্বর ব্যাডমিন্টন তারকা ডেনমার্কের মিয়া ব্লিকফেল্ট। আর এবার দূষণের (Delhi Pollution) কারণে বিশ্বের ৩ নম্বর তারকা অ্যান্ডার্স অ্যান্টনসেন ইন্ডিয়া ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলেন। এর জন্য তাঁর ৫,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানাও হয়েছে।
ডেনীয় ব্যাডমিন্টন তারকা সোশাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন সে কথা। ইনস্টাগ্রামে অ্যান্ডার্স সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইন্ডিয়া ওপেনে তিনি অংশ নেবেন না। কারণ দিল্লির মাত্রাতিরিক্ত দূষণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তিনি লেখেন, 'অনেকেই হয়তো প্রশ্ন করবেন, কেন আমি টানা তিনবার ইন্ডিয়া ওপেন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছি? আমার মনে হয় ওখানে টুর্নামেন্ট আয়োজন না করাই উচিত। কারণ সেখানকার পরিবেশ খুবই অস্বাস্থ্যকর। দূষণও মাত্রাতিরিক্ত। গ্রীষ্মে যখন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে, সেই সময় পরিবেশ অনেকটাই ভালো থাকবে। ইন্ডিয়া ওপেন থেকে নাম তুলে নেওয়ায় ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকা জরিমানাও দিতে হয়েছে আমাকে।"
এই ঘটনার ১২ ঘণ্টা আগে ইন্ডিয়া ওপেনে খেলতে এসে দিল্লির অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ডেনমার্কের আরও এক তারকা মিয়া ব্লিকফেল্ট। একই সঙ্গে এ ব্যাপারে বিশ্ব ব্যাডমিন্টন সংস্থার হস্তক্ষেপও চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, "খুবই অপরিচ্ছন্ন এখানকার পরিবেশ। খেলোয়াড়দের জন্যও এই পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। সেই কারণে অনেকেই দস্তানা বা টুপি পরে, অতিরিক্ত পোশাক চাপিয়ে অনুশীলন করছে। এটা কিন্তু একেবারেই আদর্শ নয়। কারণ কোর্টে খেলোয়াড়দের নাড়াচাড়া করতে হয়।"
এখানেই শেষ নয়, অনুশীলনের সময় কোর্টে পাখি ওড়া বা বিষ্ঠা পড়ে থাকার অভিযোগও করেন তিনি। কেবল ব্লিকফেল্ট নন, কানাডার মিশেল লি এবং প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রাতচানক ইন্তাননও দিল্লি নিয়ে অভিযোগ শানিয়েছেন। তাঁদের মতে, কোর্টে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় আবহাওয়া উষ্ণ থাকা প্রয়োজন। সেই কারণে হিটারের প্রয়োজন। কারণ এখানে খুব ঠান্ডা। সেই কারণে কোর্টের তাপমাত্রা কম থাকছে। তবে সব কিছুকে ছাপিয়ে আলোচনায় দিল্লি দূষণ।
উল্লেখ্য, দূষণের কারণে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়ানের বাতিল হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। কিছুক্ষেত্রে উড়ানের অভিমুখ বদলে দিতে হয়েছিল। বহু ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের থেকে অনেক দেরিতে চলছে। সড়কপথেও থমকে চলছে গাড়ি। কুয়াশার মধ্যে নিরাপদে চলতে সাতসকালেও জ্বলছে সমস্ত গাড়ির হেডলাইট। দিল্লির গড় একিউআই ৩০০ থেকে ৪০০-র মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে ব্যাডমিন্টন তারকারা দিল্লির দূষণকে 'মূল সমস্যা' হিসাবে তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, এর ফলে খেলোয়াড়েরা অসুস্থ বা আহত হয়ে পড়তে পারেন।
