নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে রাজি ছিল না বাংলাদেশ। এই ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ টানাপোড়েন দেখেছে ক্রিকেটবিশ্ব। শেষ পর্যন্ত টি-২০ বিশ্বকাপ থেকে 'ঘাড়ধাক্কা' খেতে হয়েছে তাদের। তবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী মহম্মদ ইউনুস সরকার ভারতে ক্রিকেট দল না পাঠালেও পদ্মাপারের দেশের সরকার শুটারদের ভারতে পাঠাবে।
বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে কেকেআর ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি জটিল হতে শুরু করে। বিসিবি’র তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, ভারতে এসে বিশ্বকাপ খেলতে তারা রাজি নয়। এরপর নানা আলোচনার পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেয় আইসিসি। তবে নিজেদের ‘গোঁয়ার্তুমি’ বজায় রাখে বিসিবি। শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার কারণ জানিয়ে কড়া বিবৃতি দেয় আইসিসি। এত সবের পরেও এশিয়ান রাইফেল অ্যান্ড শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে দল পাঠাবে বাংলাদেশ সরকার।
২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান রাইফেল অ্যান্ড শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপ। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। প্রশ্ন উঠছে, ক্রিকেটের বেলায় নিরাপত্তা সমস্যা হল, আর অন্য খেলার বেলায় সমস্যা কি মিটে গেল? যুক্তি অবশ্য সাজিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ। তাদের দাবি, টুর্নামেন্টটি যেহেতু ইন্ডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় হবে, তাই সেখানে বড় কোনও নিরাপত্তাঝুঁকি থাকবে না।
বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম 'প্রথম আলো'-কে বলেন, "বাংলাদেশ দলে একজন খেলোয়াড় এবং একজন কোচ। ছোট দল। তাছাড়া স্থানীয় আয়োজকেরা আমাদের নিশ্চয়তা দিয়েছেন, নিরাপত্তার সমস্যা হবে না। প্রতিযোগিতা হবে ইন্ডোরে এবং সংরক্ষিত এলাকায়। নিরাপত্তার কোনও সমস্যা হবে না বলেই আশা করছি। সব দিক বিবেচনা করেই শুটিং দলকে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।"
বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি তাদের অন্যতম সেরা শুটার রবিউল ইসলাম। ৫ ফেব্রুয়ারি নামবেন তিনি। কোচ হিসেবে রয়েছেন শারমিন আক্তার। রবিউলের বিশেষ পাসপোর্ট রয়েছে। সাত দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়া ভারতে থাকতে পারবেন তিনি। সেই কারণে তাঁকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে না। তবে শারমিনকে আবেদন করতে হবে। ৩১ জানুয়ারি ভারতে আসার কথা তাঁদের।
