কলকাতার নন্দনে ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে চতুর্থ আন্তর্জাতিক ক্রীড়া চলচ্চিত্র উৎসব। চলবে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবছর ১৬ দেশের ৩০টি ছবি দেখানো হবে। এরমধ্যে বাঙালি পরিচালকদের ছবি যেমন থাকবে, তেমনই থাকবে বিদেশি পরিচালকদের ছবি।
ক্রীড়া চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ দিয়েগো মারাদোনা এবং লিওনেল মেসিকে নিয়ে নির্মিত ছবি। ২০১১ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর প্রথম কলকাতায় এসেছিলেন মেসি। ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে ১-০ জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। সম্প্রতি তিনি দ্বিতীয়বার কলকাতায় পা রেখেছিলেন। এবার বড় পর্দায় তাঁকে দেখার জন্য মুখিয়ে ভক্তরা। এই ছবিটির নামও 'মেসি'। যার পরিচালক অর্ণব রিঙ্গো বন্দ্যোপাধ্যায়।
অন্যদিকে, একাধিকবার কলকাতায় এসেছেন কিংবদন্তি মারাদোনাও। ’৮৬-র বিশ্বজয়ীকে নিয়ে তিলোত্তমার আবেগ অপরিসীম। তাঁকে নিয়েও ক্রীড়া চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হবে একটি তথ্যচিত্র। তবে কেবল ফুটবল নয়, অন্য খেলা নিয়েও সিনেমা থাকবে এই উৎসবে। মীরা নায়ারের 'কুইন অফ কাটওয়ে' (২০১৬) এবং রিমা কাগতির 'গোল্ড' (২০১৮) এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। ডেভিড ওয়েলোও, লুপিতা নিয়ং'ও, মদিনা নালওয়াঙ্গা অভিনীত 'কুইন অফ কাটওয়ে' উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার বস্তি কাটওয়েতে বাস করা ফিওনা মুতেসির নামক এক মেয়ের জীবনকে চিত্রিত করে। দাবার প্রতি তাঁর অকুণ্ঠ ভালোবাসা তাঁকে দশের এক করে তোলে। কোচ রবার্ট কাটেন্ডের সহচর্যে সোপান খুঁজে শীর্ষস্থানীয় দাবাড়ু হয়ে ওঠে সে।
পরিচালক রিমা কাগতি ‘গোল্ড’ ছবিতে অলিম্পিকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ভারতীয় দলের প্রথম সোনার মেডেল ঘরে তোলার ঘটনাকেই নাটকীয়ভাবে তুলে এনেছেন। প্রায় দু'শো বছরের রাজত্ব শেষে ’৪৭-এ ব্রিটিশরা দেশের মাটি ছাড়ে। এর পরের বছরেই লন্ডন অলিম্পিকসে ব্রিটিশদের হারিয়ে সোনা জেতার নেপথ্যে জাতীয়তাবোধ, দেশপ্রেম এবং জাতীয় পতাকার সম্মান রক্ষার মতো অনুভূতি কাজ করছিল। অন্তত তেমনটাই দেখিয়েছেন পরিচালক। ভারতীয় দলের এমন জয়ের নেপথ্যে যে মানুষটির অবদান সবচাইতে বেশি, রিমার চিত্রনাট্য গড়ে উঠেছে তাঁকে কেন্দ্র করেই। তিনি তপন দাস। এক বঙ্গ তনয়। তাঁরই উৎসাহে, সক্রিয়তায় এবং অনেকাংশে তার যোগ্য নেতৃত্বের কারণেই এসেছিল। তিন-তিনটে গোল খাওয়ার পরও চার গোলে জয়। জয়সূচক গোলটি যে হিম্মত সিং করেছিল, ম্যানেজার মেহতার বিরোধিতা সত্ত্বেও তাঁকে স্টিক হাতে মাঠে নামিয়েছিলেন তপন দাসই। তাছাড়াও, ১৯৩৬ সালের বার্লিন অলিম্পিকে জার্মানিকে হারানো-সহ ’৪৮-এ লন্ডনের হকি ম্যাচগুলোর পুনর্চিত্রায়নে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে রিমা অতীতকে বিশ্বাসযোগ্য করার কোনও ত্রুটি রাখেননি। ছবিটি আবারও বড় পর্দায় প্রদর্শিত হবে নন্দনে।
ভারত ছাড়াও ক্রীড়া চলচ্চিত্র উৎসবে থাকছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চিন, ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, অস্ট্রেলিয়া-সহ ১৬টি দেশের চলচ্চিত্র। উৎসবে প্রদর্শিত অন্যান্য চলচ্চিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে ইরা দেওকুলের 'অ্যাথলিটস আর ম্যাড', অ্যাডাম লাপালোর 'আনটাচেবল', রোজাউরা আরান্ডার 'আনটিল ডেথ', দিমিত্রি ভিঙ্গুরস্কির 'বিলিভ ইন আ ড্রিম' ইত্যাদি।
