এমনিতে প্রতিবছর একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তিন প্রধানের মাঠ ব্যবহার করে হকি বেঙ্গল। এর একটাই কারণ, হকি লিগের জন্য পর্যাপ্ত মাঠ না থাকা। কিন্তু কিছুদিন আগেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের ক্যাম্পাসের ভিতর একটি, অপরটি ডুমুরজলায় অসাধারণ হকি মাঠ উপহার দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই সময় ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, হকি বেঙ্গলের জন্য যেহেতু আলাদা করে সর্বক্ষণের দু'টি মাঠ করে দেওয়া হয়েছে, তাই সামনের মরশুম থেকে কলকাতার তিন প্রধান মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডানের মাঠে আর হকি লিগের খেলা হবে না।
বেশ কিছুদিন ধরেই তিন প্রধানই তাদের মাঠে হকি লিগের খেলা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। এর পিছনে একটাই কারণ, বয়স ভিত্তিক ফুটবলের সঙ্গে সিনিয়র দলের অনুশীলনেরও মাঠের অভাব। তার উপর যে মুহূর্তে হকি বেঙ্গল মাঠ চাইছে, সেই মুহূর্তে আবার আইএসএলের জন্য তিন প্রধানের অনুশীলনের মাঠ দরকার। এই ইস্যুতে এবার তিন প্রধান এককাট্টা। তাঁদের বক্তব্য হল, "এই সময়টা হকির জন্য মাঠ ছাড়া হয় বলে শুধু এই কারণেই যদি মাঠ ছাড়তে হয়, তাহলে আমরা লড়াইয়ের পথে যাব। আগে মাঠ দিতে হত কারণ, হকি লিগ করার মাঠ ছিল না। এখন তো রাজ্য সরকার আলাদা করে মাঠ করে দিয়েছে। তাহলে আমাদের যেখানে ফুটবল প্র্যাকটিস করার মাঠ নেই, সেখানে মাঠ নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে কেন? এর শেষ দেখে ছাড়ব।"
এগুলি যে শুধু কথার কথা নয়, তা প্রমাণের জন্য এদিন ক্রীড়া দপ্তরের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ কুমার সিনহাকে চিঠি দিলেন মোহনবাগান ক্লাব সচিব সৃঞ্জয় বোস। যুবভারতীতে আন্তর্জাতিক হকি স্টেডিয়াম গড়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশংসা করার পাশাপাশি চিঠিতে মোহনবাগান সচিব প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি রাজেশ কুমার সিনহাকে লেখেন, 'ফেব্রুয়ারিতেই আইএসএল খেলতে নামবে মোহনবাগান। তার প্রস্তুতিতেই ব্যস্ত রয়েছে দল। হকি বেঙ্গল থেকে এই সূচি আমরা পেয়েছি। এই মুহূর্তে মাঠ ফুটবলের জন্য নিয়োজিত। হকি ম্যাচ আয়োজন কঠিন কাজ।'
ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, “যতদিন মাঠ ছিল না, ততদিন আমরা মাঠ দিয়ে সাহায্য করেছি। এখন যখন ওদের মাঠ হয়ে গিয়েছে, তখন আমাদের কেন ফুটবল প্র্যাকটিস করতে দেওয়া হবে না।” প্রতিবাদ করছে মহামেডানও। মহামেডান কর্তা কামরুদ্দিন বলেন, “আমরা আগেই জানিয়ে দিয়েছি এই মুহূর্তে ঘরোয়া লিগে হকির মাঠ দেওয়া সম্ভব নয়।”
