ডিভোর্সের পরও বিতর্ক থামেনি মেরি কমের জীবনে। প্রাক্তন স্বামী ওনলারকে 'বেকার' বলে তোপ দেগে ৬ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলেছিলেন, "এক পয়সা রোজগারের মুরোদ নেই।" কিন্তু এখন তাঁর দাবি, ওই মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় দীর্ঘ ভিডিওবার্তা পোস্টে ক্ষমা চেয়ে মেরি বললেন, "আমার বক্তব্য পুরো পুরুষ সমাজের জন্য ছিল না বা কাউকে ছোট দেখানোর জন্য ছিল না।"
বিবাহবিচ্ছেদের দু’বছর কেটে যাওয়ার পর আচমকাই কাদা ছোড়াছুড়ি শুরু হয় মেরি এবং ওনলারের মধ্যে। একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে ভারতীয় বক্সার বলেন, ওনলার আসলে পথে পথে ফুটবল খেলে বেড়াত। সত্যি কথা বলতে একটাও পয়সা উপার্জন করেনি। কোনও আত্মত্যাগ নেই, কোনও অবদান নেই। আমি অনেক উপার্জন করেছি, বিশ্বাস করে সমস্ত অর্থ তুলে দিয়েছিলাম ওর হাতে।" তার সঙ্গে তিনি বলেছিলেন, রাস্তায় ফুটবল খেললেই কেউ সুনীল ছেত্রী হয়ে যান না। তার আগেই অবশ্য ওনলার মেরির বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ আনেন।
মেরির মন্তব্যের পরই ক্ষুব্ধ হন অনেকে। আবার ফুটবলপ্রেমীদের অনেকে বলেন, সুনীল ছেত্রী না হতে পারলে কি অন্য ফুটবলারদের পরিশ্রমের মূল্য নেই? অবশেষে মুখ খুললেন ৪৩ বছর বয়সি বক্সার। তিনি বলেন, "এমন নয় যে, আমার বিবাহিত জীবনে কখনই সুখী হয়নি। একসময় সব ঠিক ছিল। কিন্তু পরে বিশ্বাস ভেঙে যায়। কিন্তু ডিভোর্সের পর আমার বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হচ্ছিল, আমি তারপরও চুপ ছিলাম। আমি সব সময় সম্মান বজায় রাখতে চেয়েছি।"
এমন নয় যে, আমার বিবাহিত জীবনে কখনই সুখী হয়নি। একসময় সব ঠিক ছিল। কিন্তু পরে বিশ্বাস ভেঙে যায়। কিন্তু ডিভোর্সের পর আমার বিরুদ্ধে যে কথাগুলো বলা হচ্ছিল, আমি তারপরও চুপ ছিলাম। আমি সব সময় সম্মান বজায় রাখতে চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, "আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। যা দুর্ভাগ্যজনক। আমি ফুটবলের বিরুদ্ধে নই। বরং রাস্তা থেকেই ফুটবলার উঠে সুনীল ছেত্রী বা বাইচুং ভুটিয়া হয়। আমার মন্তব্য কোনও ফুটবলার বা ক্রীড়াবিদের বিরুদ্ধে ছিল না। আমি ওই অনুষ্ঠানে যা বলেছিলাম, তাতে অনেকেই আঘাত পেয়েছেন। তার জন্য বৃহত্তর পুরুষ সমাজের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি সব পুরুষকে উদ্দেশ্য করে এই কথাটা বলিনি। আমার বক্তব্য পুরো পুরুষ সমাজের জন্য ছিল না বা কাউকে ছোট দেখানোর জন্য ছিল না। আসলে আমার মধ্যে এতো কষ্ট ছিল যে, সেটা এভাবে প্রকাশিত হয়েছে। আমি কখনই নেতিবাচক বার্তা দিতে চাইনি।"
উল্লেখ্য, ১৮ বছরের বিবাহিত জীবন ছিল মেরি-ওনলারের। গত ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর তাঁদের ডিভোর্স হয়। সেসময়ে এত বিতর্ক হয়নি। কিন্তু বিচ্ছেদের ২ বছর পর একে অপরকে কাঠগড়ায় তুলছেন একটা সময় পাওয়ার কাপল বলে পরিচিত মেরি-ওনলার।
মেরি ও ওনলার। ফাইল ছবি
