স্টাফ রিপোর্টার: যাঁর হাত ধরে চৌষট্টি খোপের খেলা শুরু করেছিলেন, সেই ঠাকুরদার মৃত্যুশোক সঙ্গী করেই শুক্রবার চমক দিলেন নেহাল সরিন। টাটা স্টিল চেস ইন্ডিয়ার র্যাপিড রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন হলেন ভারতের এই তরুণ দাবাড়ু।
অথচ প্রতিযোগিতায় খেলার কথাই ছিল না নেহালের। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ডোম্মারাজু গুকেশ সরে দাঁড়ানোয় ডাক পান তিনি। সেখানেও প্রচারের আলো ছিল বিশ্বনাথন আনন্দ, অর্জুন ইরিগেসি, রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দের মতো তারকার উপর। আর অলক্ষ্যে থেকেই বাজিমাৎ করলেন নেহাল। দ্বিতীয় দিনের শেষে সারে চার পয়েন্ট নিয়ে আনন্দের সঙ্গে যুগ্মভাবে শীর্ষে ছিলেন তিনি। এদিন পরপর দু'টো রাউন্ড ড্র করেন আনন্দ, বিদিত গুজরাতি ও প্রজ্ঞানন্দের সঙ্গে। সেখানে প্রজ্ঞার সঙ্গে ড্রয়ের পর ওয়েসলি সো-র বিরুদ্ধে জিতে এগিয়ে যান নেহাল। শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছিলেন দু'জন। সেরা হতে ম্যাচটা জিততেই হত আনন্দকে। সেখানে খেলা অমিমাংসিত থাকায় চ্যাম্পিয়ন হন নেহাল।
তিনি বলছিলেন, "ঠাকুরদার হাত ধরে আমি দাবা খেলা শুরু করি। কাল রাতে তাঁর মৃত্যুর খবর পাই। তিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন ঠিকই। তবে খবরটা সহ্য করা সহজ ছিল না। আমি নিজেকে বোঝাই, এখানে জিততে পারলে সেটাই ওঁর জন্য শ্রেষ্ঠ শ্রদ্ধাঞ্জলি হবে। আজ সেই কথা মাথায় রেখেই খেলেছি।" এর আগে ২০২২ সালেও কলকাতায় প্রতিযোগিতার র্যাপিড বিভাগে সেরা হয়েছেন নেহাল।
অন্যদিকে, ফের কলকাতায় প্রতিযোগী হিসাবে ফিরে খুশি আনন্দ। তাঁর বার্তা, 'গতবার এখানে এসে বুঝেছিলাম, দর্শক হিসাবে আর আসতে পারব না। না খেলতে পারাটা খুবই কষ্ট দিত। এবার বিশেষ কোনও পরিকল্পনা করে আসিনি। সাম্প্রতিক সময়ে জেরুজালেমে একটা প্রতিযোগিতায় নেমেছিলাম। এরপর গ্লোবাল চেস লিগে খেলি। কলকাতা আমার তৃতীয় প্রতিযোগিতা। জানি না এরপর কোথায় খেলব।" র্যাপিডের মহিলা বিভাগে সেরা হয়েছেন ক্যাটারিনা লাগনো।
