দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সিনসিনাটি ওপেন থেকে বিদায় নিতে হল নোভাক জকোভিচের (Novak Djokovic)। ফলে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চেই হোঁচট খেতে হল 'জোকার'কে। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচে বলা চলে আবহাওয়ার কাছে হার মানতে হল ২৪ বারের গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিককে।
ঠিক কী হয়েছ? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিনসিনাটিতে তীব্র গরম ও আর্দ্রতার সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে সার্বিয়ান এই তারকাকে। এতটাই গরম ছিল যে, অসুস্থ হয়ে পড়েন ৩৯ বছর বয়সি জোকোভিচ। এমনকী কোর্টেই বমি করতে দেখা যায় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত ক্রমতালিকায় থাকা আর্জেন্টিনার থিয়াগো তিরান্তের কাছে তিন সেটে পরাজিত হয়ে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হয় তাঁকে। খেলার ফলাফল ২-৬, ৬-৪, ৬-৪।
ওহাইওতে তৃতীয় বাছাই জোকোভিচকে উইম্বলডনের পর থেকে দেখা যায়নি। তবে তিরান্তের বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ৬৪-এর ম্যাচে প্রথম সেট ৬-২ ব্যবধানে সহজেই জিতে নেন। সেই সময় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা অসহনীয়। দ্বিতীয় সেট থেকেই অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায় তাঁকে। দ্বিতীয় সেটের তৃতীয় গেম চলে ১৮ মিনিট ধরে। ন'টি ডিউস হয়। সেখানে চারটি ব্রেক পয়েন্ট বাঁচান জোকোভিচ। শেষ পর্যন্ত গেম জিতলেও ধকল নিতে পারেননি তিনি।
তীব্র গরম ও আর্দ্রতার মধ্যে কোর্টেই অসুস্থ হয়ে পড়েন নোভাক জোকোভিচ। ম্যাচ চলাকালীন এক পর্যায়ে বমি করতে দেখা যায় তাঁকে। শারীরিক ক্লান্তিতে হাত-পায়ের উপর ভর দিয়ে কোর্টে বসেও পড়েন সার্বিয়ান তারকা। পরিস্থিতি দেখে ছুটে আসেন ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসক। প্রাথমিক চিকিৎসার পর দ্বিতীয় সেট শেষ হতেই কিছু সময়ের জন্য লকার রুমে যান দু'জন। বিরতির পর লড়াইয়ে ফিরলেও চেনা ছন্দে দেখা যায়নি জোকোভিচকে। তৃতীয় সেটে ৪-৪ পর্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর নবম গেমে চতুর্থ ব্রেক পয়েন্টে জোকোভিচের সার্ভিস ভেঙে দেন ২৫ বছরের আর্জেন্টাইন তারকা। নিজের সার্ভিস ধরে রেখে ২ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ম্যারাথন ম্যাচ জিতে কোর্টেই উচ্ছ্বাসে ভাসেন তিনি।
ম্যাচের পর তিরান্তে বলেন, "এটি আমার কেরিয়ারের সেরা জয়। জোকোভিচের মতো কিংবদন্তির বিরুদ্ধে খেলার চাপ সামলে নিজের উপর বিশ্বাস রাখাই ছিল আসল চাবিকাঠি।" পরের রাউন্ডে তাঁর প্রতিপক্ষ স্পেনের মার্টিন ল্যান্ডালুস। অন্যদিকে, এই হারের সঙ্গে ভেঙে গেল জোকোভিচের দীর্ঘ দিনের এক অবিশ্বাস্য রেকর্ডও। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর থেকে সিনসিনাটি ওপেনে প্রতিবারই শেষ ৩২-এ পৌঁছেছিলেন তিনি। ২১ বছর ধরে অক্ষত থাকা সেই ধারায় এবারই প্রথম ছেদ পড়ল।
