নিউ ইয়র্কে ইন্দ্রপতন! প্রথম রাউন্ডে হেরে যুক্তরাষ্ট্র ওপেন থেকে বিদায় নিতে হল কিংবদন্তি নোভাক জোকোভিচকে। ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের পাঁচ সেটের লড়াইয়ে সার্বিয়ান তারকা হেরে গেলেন ৬-৭, ৭-৫, ৬-৪, ২-৬, ১-৬ ব্যবধানে। ফলে ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল তাঁর।
শরীরটা যেন সঙ্গ দিচ্ছিল না তাঁর। আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে প্রচণ্ড আর্দ্রতার মধ্যে বারবার মাথায় বরফের ব্যাগ চাপাতে দেখা যায় তাঁকে। ছাদ বন্ধ হওয়ার পরও স্বস্তি পাননি। এমনকী ম্যাচ সুপারভাইজারের কাছে এয়ার কন্ডিশনার চালানোর অনুরোধও করেন। তৃতীয় সেটে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। ষষ্ঠ গেমে একাধিকবার বমি করেন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর আবার খেলায় ফেরেন। ফিজিও তাঁকে ওষুধ দেন। টিমের সদস্যেরা জল ও প্রয়োজনীয় তরল পৌঁছে দেন। তখন ম্যাচ গড়িয়ে গিয়েছে প্রায় চার ঘণ্টার দিকে।
তবু জোকোভিচ তো জোকোভিচই। প্রথম সেট হারানোর পর দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেন। দ্বিতীয় সেট ৭-৫ এবং তৃতীয় সেট ৬-৪ জিতে এগিয়ে যান। মনে হচ্ছিল, ফের একবার অসম্ভবকে সম্ভব করার লক্ষ্যে এগোচ্ছেন তিনি। কিন্তু হাল ছাড়েননি নাভোনে। চতুর্থ সেট ৬-২ ব্যবধানে জিতে সমতা ফেরান আর্জেন্টিনা তারকা। শেষ সেটে শুরু থেকেই জোকোভিচের উপর চাপ বাড়াতে থাকেন। ৪-১ এগিয়ে যাওয়ার পর ক্রমশ পিছিয়ে পড়েন ৩৯ বছরের সার্বিয়ান তারকা। এই সময় আবেগ সামলাতে পারেননি জোকোভিচ। কোর্টের মধ্যেই চোখের কোণে জল দেখা যায়। গ্যালারিতে স্ত্রী জেলেনার চোখেও উদ্বেগ ধরা পড়ে।
ফ্লাশিং মিডোজে এসেছিলেন ইতিহাস লেখার লক্ষ্যে। ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলে পুরুষদের একক টেনিসে সবচেয়ে বেশি মেজর জয়ের রেকর্ড তাঁর দখলে চলে আসত। একই সঙ্গে ইউএস ওপেনে ৯৮টি ম্যাচ জয়ের জিমি কোনর্সের রেকর্ড ভাঙারও হাতছানি ছিল। কিন্তু সব হিসাবই ওলটপালট করে দিল নাভোনে। ২০২৩ সালে শেষবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতেছিলেন যুক্তরাষ্ট্র ওপেনেই। গ্র্যান্ড স্ল্যামে টানা ৭৮টি প্রথম রাউন্ডের ম্যাচ জিতেছিলেন জোকোভিচ। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে পল গোল্ডস্টাইনের কাছে প্রথম রাউন্ডে হারের পর আর কখনও প্রথম রাউন্ডে হারেননি জোকোভিচ। নিউ ইয়র্কে বিশ্বের ৪৯ নম্বর মারিয়ানো নাভোনের কাছে হারে সেই ধারা ভেঙে গেল।
