shono
Advertisement
Sports News

স্টেথোস্কোপ রেখে বন্দুক হাতে বাজিমাত! শ‌্যুটিংয়ে গুজরাটকে হারিয়ে পদক বাংলার চিকিৎসকের

সম্প্রতি ভোপালে জাতীয় শ‌্যুটিং প্রতিযোগিতায় ১০ মিটার এয়ার রাইফেল প্রতিযোগিতায় পঁয়তাল্লিশ উর্দ্ধ প্রতিযোগীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন ডা. অর্চনা সিং।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 11:50 PM Jan 16, 2026Updated: 11:53 PM Jan 16, 2026

'যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে' - প্রবাদ যে কতখানি সত্যি, জুতো সেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ সব কাজেই বাংলার মহিলাদের এগিয়ে থাকা তা প্রমাণ করে দিয়েছে। ফের সেই এগিয়ে থাকার ছবি দেখা গেল জাতীয় স্তরে শ‌্যুটিং প্রতিযোগিতার মঞ্চে। ১০ মিটার ওয়ার রাইফেল ইভেন্টে ব্রোঞ্জ পদক ছিনিয়ে আনলেন এসএসকেএমের রেডিওলজিস্ট ডা. অর্চনা সিং।

Advertisement

সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ মারাত্মক। নাওয়াখাওয়ার সময় থাকে না। তবু ভালোবাসা ছেড়ে দেওয়া যায়? কাজের মাঝেই বছর দুয়েক আগে শ‌্যুটিং প্র্যাকটিস শুরু করেন ডা. অর্চনা সিং। তাঁর কথায়, ‘‘এর নেপথ্যে আমার স্বামীর ভূমিকা অপরিসীম। ওই আমাকে সাহস জুগিয়েছে। বলেছে, বাড়ির দিকটা আমি দেখে নেব। তুমি শ‌্যুটিং প্র্যাকটিস চালিয়ে যাও।’’ কীভাবে বুঝেছিলেন স্ত্রীর লক্ষ‌্যভেদ হবেই? ডা. মিঠুন চৌধুরী জানিয়েছেন, ''প্রেম করার সময় দু’জন মেলায় যেতাম। যে বেলুনই দেখাতাম ও 'বলে 'বলে ফাটিয়ে দিতে। তখনই বুঝেছিলাম ওর মধ্যে লুকিয়ে প্রতিভা।''

বছর দুয়েক আগে শ‌্যুটিং অ‌্যাকাডেমিতে ভর্তি হওয়া। জয়দীপ চৌধুরী শ‌্যুটিং অ‌্যাকাডেমিতে অর্ন্তবর্তী প্রতিযোগিতায় মহিলাদের মধ্যে প্রথম হয়েছিলেন অর্চনা। সেখানে সতীর্থরাই বলেন, ''টিপ আছে। লক্ষ‌্য ছেড়ো না।'' ছাড়েননি তিনি। সম্প্রতি ভোপালে বসেছিল জাতীয় শ‌্যুটিং প্রতিযোগিতার আসর। সেই ৬৮ তম ন‌্যাশনাল শ‌্যুটিং চ‌্যাম্পিয়নশিপে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল প্রতিযোগিতায় পঁয়তাল্লিশ উর্দ্ধ প্রতিযোগীদের তালিকায় নাম লিখিয়েছিলেন ডা. অর্চনা সিং। দশটা-পাঁচটার চাকরি করেন, এমন অনেক মহিলাই হাঁপিয়ে ওঠেন। সেখানে ১২ ঘন্টা হাসপাতালে ডিউটি করেও শ‌্যুটিং প্র্যাকটিস চালিয়ে গিয়েছেন অর্চনা।

শেষ জাতীয় শ‌্যুটিং চ‌্যাম্পিয়নশিপে বাংলা থেকে একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন তিনিই। যে প্রতিযোগিতায় অর্চনা ব্রোঞ্জ জিতেছেন সেখানে প্রথম অর্থাৎ স্বর্ণপদকজয়ী তেজস্বিনী সাওয়ান্ত, দ্বিতীয় অঞ্জলি ভাগওয়াত। একজন অলিম্পিয়াড অন‌্যজন ওয়ার্ল্ড নম্বর ওয়ান। দুজনেই মহারাষ্ট্রের। তৃতীয় স্থানে জ্বলজ্বল করছেন বাংলার অর্চনা সিং। যিনি আসলে একজন পেশাদার চিকিৎসক। রোগী দেখেও গুজরাট, দিল্লি, হরিয়ানাকে হেলায় হারিয়ে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছেন তিনি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement