দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। রাজ্যের সরকারি কর্মচারী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য অবশেষে এল খুশির খবর। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসেই সেই বকেয়া অর্থ কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। বিধানসভা ভোটের মুখে এই পদক্ষেপ রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মীর আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমাবে। জানা যাচ্ছে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ডিএ/ডিআর- এরিয়ারের টাকা মেটানো হবে ২ দফায়। রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা প্রথম কিস্তির টাকা পাবেন চলতি বছরের মার্চেই। এই সময়কালের ডিএ-এর বকেয়া অংশ মিলবে সেপ্টেম্বরে। তবে কার ভাগ্যে ঠিক কত টাকা জুটবে, তা নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন রয়েছে। কীভাবে নিজের প্রাপ্য বকেয়ার হিসেব করবেন তা জানেন কি? কয়েকটি ধাপে খুব সহজেই এই হিসেব করে নিতে পারেন।
মূল বেতন নির্ধারণ: হিসাব শুরুর আগে আপনার নির্দিষ্ট সময়ের প্রতি মাসের 'বেসিক পে' বা মূল বেতন (ব্যান্ড পে এবং গ্রেড পে মিলিয়ে) নিশ্চিত করতে হবে।
ডিএ-র ফারাক: ওই সময়ে আপনি ঠিক কত শতাংশ হারে ডিএ পেয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আপনার প্রাপ্য কত ছিল, তার পার্থক্য বা গ্যাপটি বের করতে হবে।
মাসের বকেয়া: প্রতি মাসের মূল বেতনের সঙ্গে ওই পার্থক্যের শতাংশ গুণ করলেই সেই নির্দিষ্ট মাসের বকেয়া টাকা বেরিয়ে আসবে।
মোট বকেয়া: এইভাবে প্রতিটি মাসের বকেয়া অর্থ যোগ করলে আপনি আপনার মোট বকেয়ার পরিমাণ জানতে পারবেন।
হাতে আসা অর্থ: রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মোট বকেয়া অর্থের ২৫ শতাংশ (০.২৫ দিয়ে গুণ করে) আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। অর্থাৎ মোট পাওনার চার ভাগের এক ভাগ এখন মিলবে।
হিসাব সহজ করতে অনলাইন ক্যালকুলেটর
পুরানো স্যালারি স্লিপ বা সার্ভিস বুক দেখে বছরের পর বছর ধরে এই হিসাব কষা বেশ সময়সাপেক্ষ। এতে ভুলের সম্ভাবনাও থেকে যায়। কর্মীদের এই সমস্যা মেটাতে একটি বিশেষ অনলাইন 'ডব্লিউবি ডিএ এরিয়ার ক্যালকুলেটর'(WB DA Arrears Calculator) তৈরি করা হয়েছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিলেই এক ক্লিকে নির্ভুলভাবে জানা যাবে প্রাপ্য টাকার অঙ্ক। ঘরে বসেই কয়েক সেকেন্ডে এই জটিল হিসাব সারতে পারছেন পেনশনভোগীরাও। তবে সঠিক তথ্য পেতে নিজের পুরানো বেতনের নথিগুলি হাতের কাছে রাখা জরুরি। আপাতত বকেয়ার এই প্রথম কিস্তির টাকা হাতে পাওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সরকারি কর্মীরা।
