ভারতের বাজারে এখন ধনকুবেরদের রমরমা। প্রতি বছর প্রায় ১২ শতাংশ হারে বাড়ছে কোটিপতির সংখ্যা। অথচ উপযুক্ত পরামর্শদাতার অভাবে এই বিপুল সম্পত্তির একটা বড় অংশই প্রাতিষ্ঠানিক লগ্নির বাইরে থেকে যাচ্ছে। দেশের উচ্চবিত্তদের এই অলস পুঁজিকেই এবার লগ্নির মূল স্রোতে ফেরাতে কোমর বাঁধছে ‘সিস্টেম্যাটিক্স প্রাইভেট ওয়েলথ’। আগামী পাঁচ বছরে সংস্থার ম্যানেজমেন্টের অধীনে থাকা সম্পদের পরিমাণ (এইউএম) প্রায় চার গুণ বাড়িয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এই অঙ্কটি প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা।
সংস্থার এই নতুন জয়যাত্রার মূল ভরসা দেশের ‘টিয়ার-২’ বা ছোট শহরগুলি। প্রথম বছরেই দিল্লি, মুম্বই, কলকাতার পাশাপাশি ইন্দোর, পুণের মতো শহরে জমি শক্ত করেছে তারা। আগামী পাঁচ বছরে সুরাট, জয়পুর, বরোদা, লখনউ, হায়দরাবাদ এবং গোয়ার মতো মোট ১৭টি শহরে ডানা মেলতে চলেছে এই সংস্থা। ছোট শহরের এই নতুন ধনকুবেরদের হাত ধরেই নিজেদের ব্যবসার ভোলবদল করতে চাইছে তারা।
সংস্থার যৌথ ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও পার্থ সেনগুপ্তের মতে, এ দেশে ধনীদের ৯০ শতাংশ সম্পদই এখনও সঠিক কাঠামোর মধ্যে নেই। এই পরিবর্তনটাই তাঁদের ব্যবসার প্রধান হাতিয়ার। আর এক যৌথ ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ভাস্কর হাজরার দাবি, সঠিক সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমেই লগ্নিকারীদের ভরসা জয় করা তাঁদের লক্ষ্য।
মূলত তিন ধরনের গ্রাহকদের পরিষেবা দেবে এই সংস্থা। প্রথম সারিতে থাকছেন সংস্থার পদস্থ কর্তা ও পেশাদাররা, যাঁদের ন্যূনতম লগ্নির অঙ্ক হতে হবে ৫ কোটি টাকা। দ্বিতীয় ভাগে থাকছে বড় ব্যবসায়ী ও ফ্যামিলি অফিস এবং তৃতীয় ভাগে কর্পোরেট ট্রেজারি। আল্ট্রা-এইচএনআই বা অতি-উচ্চবিত্তদের ক্ষেত্রে এই লগ্নির অঙ্ক শুরু হবে ২৫ কোটি টাকা থেকে। শেয়ার বাজার, ফিক্সড ইনকাম ও মিউচুয়াল ফান্ডের পাশাপাশি সম্পত্তি উইল বা কর সংক্রান্ত বিষয়েও পেশাদার পরামর্শ দেবে এই সংস্থা। কোনও ব্যক্তির সম্পর্কের খাতিরে নয়, সম্পূর্ণ নিজস্ব গবেষণা ও প্রযুক্তির ওপর ভর করেই লগ্নির সেরা রাস্তা বেছে দেবে সিস্টেমেটিক্স।
