রাতদিন খেটে উপার্জন করছেন। সংসার সামলে সঞ্চয়ও করছেন নিয়ম মেনে। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভাবলেই কি কপালে ভাঁজ পড়ছে? আপনি কি আদৌ সুরক্ষিত? আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলার বহু মধ্যবিত্ত পরিবার বর্তমানে এই ধন্দেই দিন কাটাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, বিনিয়োগ করা সত্ত্বেও অনেকে আর্থিক সংকটে পড়ছেন মূলত সঠিক পরিকল্পনার অভাবে।
বিনিয়োগের বাজারে এখন অন্যতম বড় শত্রু হল ‘গুজব’। পাড়ার মোড়ের আড্ডা হোক বা অফিস— হুজুগে বিনিয়োগের নেশা অনেকেরই আছে। কেউ বলছেন অমুক ফান্ডে ১৫ শতাংশ রিটার্ন নিশ্চিত! কেউ আবার বলছেন জমি কেনাই সেরা। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, অন্যের লাভের খতিয়ান আপনার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। লিকুইডিটি বা প্রয়োজনের সময় টাকা হাতে পাওয়ার বিষয়টি মাথায় না রেখে বিনিয়োগ করলে বিপদ অনিবার্য।
আরেকটি বড় সমস্যা হল ‘অন্যকে দেখে লক্ষ্য স্থির করা’। আপনার পাশের বাড়ির ভদ্রলোক তাঁর ছেলের উচ্চশিক্ষার জন্য যেখানে বিনিয়োগ করেছেন, আপনার ক্ষেত্রে তা কার্যকরী নাও হতে পারে। প্রত্যেকের আয়, পারিবারিক দায়িত্ব এবং চিকিৎসার খরচ আলাদা। তাই নিজের চাদর বুঝে পা ছড়ান। সবার আগে নিজস্ব ফিনান্সিয়াল গোল সেট করা জরুরি।
বর্তমানে সবচেয়ে বড় ফাঁদ পেতেছে সোশ্যাল মিডিয়া। ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামের ‘ফিন-ইনফ্লুয়েন্সার’রা অল্প দিনে কোটিপতি হওয়ার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। তাঁদের চটকদার রিল দেখে না বুঝে শেয়ার বাজারে টাকা ঢালছেন অনেকেই। মনে রাখবেন, এসব পরামর্শের পেছনে অনেক সময় ব্যবসায়িক স্বার্থ থাকে। না জেনে টাকা ঢেলে সর্বস্বান্ত হওয়ার উদাহরণ ভুরি ভুরি।
পরিশেষে বিশেষজ্ঞদের টোটকা— যদি নিজেই সবটা না বোঝেন, তবে পেশাদার বিনিয়োগ উপদেষ্টার সাহায্য নিন। সামান্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আপনার বয়স এবং ঝুঁকির ক্ষমতা অনুযায়ী একটি সঠিক ‘পোর্টফোলিও’ তৈরি করে দেওয়াই তাঁদের কাজ। হুজুগে নয়, শৃঙ্খলার সঙ্গে বিনিয়োগ করলেই মিলবে আর্থিক স্বাধীনতা।
