মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট। আঁচ এসে পড়েছে জনজীবনে। এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়েছে গ্যাসের দাম। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে কালোবাজারি। প্যানিক বুকিং রুখতে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এলপিজি সিলিন্ডারে চেপেছে কড়া শর্ত। যখন সাধারণ মানুষ দিশেহারা, ঠিক তখনই আশার আলো দেখাচ্ছে হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেড (এইচপিসিএল)।
বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা চললেও দেশে জ্বালানি তেল ও রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে আশঙ্কার কোনও কারণ নেই। এইচপিসিএল জানিয়েছে, দেশজুড়ে পেট্রোল, ডিজেল এবং এলপিজি সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। ৪ এপ্রিলের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একদিনেই সংস্থাটি প্রায় ৩.৮ কোটি লিটার পেট্রোল এবং ৬.৯ কোটি লিটার ডিজেল বিক্রি করেছে। ওই দিন দেশজুড়ে প্রায় ১.৯৪ কোটি গ্রাহককে পরিষেবা দেওয়া হয়েছে।
রান্নার গ্যাসের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি পূর্ণ তৎপরতা বজায় রেখেছে। ৪ এপ্রিল প্রায় ১৪.৪ লক্ষ এলপিজি সিলিন্ডার গ্রাহকদের ঘরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ৫ কেজি ও ২ কেজির ছোট সিলিন্ডারও পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের মজুত যথেষ্ট রয়েছে। গ্রাহকদের অযথা আতঙ্কিত না হওয়ার এবং গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৯৪ শতাংশ বুকিং ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে। ওটিপি ব্যবস্থার মাধ্যমে সিলিন্ডার বিলি করে স্বচ্ছতা বজায় রাখছে সংস্থা।
জোগান স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি কালোবাজারি রুখতে কঠোর পদক্ষেপ করেছে এইচপিসিএল। গত ১৪ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিলের মধ্যে দেশজুড়ে চার হাজারেরও বেশি অভিযান চালানো হয়েছে। অসাধু আচরণের দায়ে ৫৩ জন ডিস্ট্রিবিউটরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ২০ জনের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন জায়গায় হানা দিয়ে ৩,১৬৩টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করেছে সংস্থাটি। প্রশাসন ও অন্যান্য তেল সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে এই নজরদারি চালানো হচ্ছে। যেকোনও সমস্যায় গ্রাহকদেরকে হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
