ভারতীয় বাজারে বিনিয়োগের দুনিয়ায় এক নতুন অধ্যায় শুরু করল এইচএসবিসি মিউচুয়াল ফান্ড (HSBC Mutual Fund)। দেশে প্রথমবারের মতো তারা নিয়ে এল 'এইচএসবিসি গোল্ড ইটিএফ' এবং 'এইচএসবিসি গোল্ড ইটিএফ ফান্ড অফ ফান্ড' (FoF)। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সপ্তাহ থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন এই ফান্ড অফার বা এনএফও (NFO) প্রক্রিয়ার সাবস্ক্রিপশন।
বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ আর তার সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে সোনা। তবে এখন আর লকারে ভৌত সোনা জমিয়ে রাখার দিন শেষ। ডিজিটাল দুনিয়ায় সোনায় বিনিয়োগকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করে তোলাই এই নতুন ফান্ডের লক্ষ্য। এইচএসবিসি-র এই ইটিএফ স্কিমটি সরাসরি খাঁটি সোনা অথবা সোনা-সম্পর্কিত সিকিউরিটিজে লগ্নি করবে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারের সোনার দরের ওঠানামার সুফল ভোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে, 'ফান্ড অফ ফান্ড' স্কিমটি মূলত গোল্ড ইটিএফ-এর ইউনিটগুলোতে বিনিয়োগ করবে।
সূচি অনুযায়ী, গোল্ড ইটিএফ-এর সাবস্ক্রিপশন চলবে ১৬ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত। অন্য দিকে, ফান্ড অফ ফান্ডের জন্য ১৯ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত সময় পাবেন বিনিয়োগকারীরা। দুটি ফান্ডই পরিচালনার দায়িত্বে থাকছেন দীপন পারিখ। এনএফও চলাকালীন ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা দিয়ে বিনিয়োগ শুরু করা যাবে। এরপর ১ টাকার গুণিতকে যে কোনও পরিমাণ অর্থ লগ্নি করার সুযোগ থাকছে।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার বাজারের অস্থিরতার সময়ে সোনা বরাবরই রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। এইচএসবিসি মিউচুয়াল ফান্ডের সিইও কৈলাস কুলকার্নি জানান, সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বর্ণ বর্তমানে একটি মূল ভিত্তি। ভৌত সোনা রক্ষণাবেক্ষণের ঝুঁকি বা জটিলতা ছাড়াই এখন সাধারণ মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পোর্টফোলিওতে বৈচিত্র্য আনতে পারবেন। একইভাবে সংস্থার ইক্যুইটি সিআইও ভেনুগোপাল মানঘাট মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে সোনায় বিনিয়োগ অত্যন্ত কার্যকর।
এই ফান্ডের বিশেষত্ব হল এর নমনীয়তা। এনএসই (NSE) এবং বিএসই (BSE)-তে এই ইটিএফ লেনদেন করা যাবে। আবার ফান্ড অফ ফান্ডের ক্ষেত্রে এসআইপি (SIP), টপ-আপ বা এসডব্লিউপি (SWP)-র মতো সুবিধাও মিলবে। সম্পদের অন্তত ৯৫ শতাংশ সোনা বা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করার বাধ্যবাধকতা থাকায় লগ্নিকারীদের নিরাপত্তা অনেকটাই সুনিশ্চিত। মুদ্রাস্ফীতি বা বাজারের ডামাডোলে সোনা যে আজও সেরা বাজি, এইচএসবিসি-র এই নতুন পদক্ষেপ তা আবারও প্রমাণ করল।
