সাধারণ মানুষের কাছে আয়কর বা ট্যাক্সের হিসেবনিকেশ বরাবরই বেশ জটিল। কোন নিয়মে কী ভাবে কর জমা দিতে হবে, তা নিয়ে অনেকের মনেই থাকে ধোঁয়াশা। করদাতাদের এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবং কর ব্যবস্থার নতুন নিয়মকানুন শেখাতে এগিয়ে এল আয়কর দফতর। শুক্রবার মেদিনীপুরের মুগবেড়িয়া সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের সভাকক্ষে আয়কর দফতরের কলকাতা কার্যালয়ের (ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন) উদ্যোগে একটি বিশেষ সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছিল।
মূলত সাধারণ মানুষকে আয়করের নিয়ম সম্পর্কে আরও সচেতন করা এবং আর্থিক লেনদেনের রিপোর্টিং ব্যবস্থাকে সহজ করাই ছিল এই সভার লক্ষ্য। শিবিরে উপস্থিত ছিলেন বহু চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কর বিশেষজ্ঞ, সমবায় ব্যাঙ্কের প্রতিনিধি এবং অতিরিক্ত জেলা সাব-রেজিস্ট্রাররা। বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ আয়কর উপ-নির্দেশক অনুপম মজুমদারের স্বাগত ভাষণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। তিনি জানান, এই ধরনের আলোচনার ফলে সাধারণ মানুষ ও করদাতারা সরাসরি উপকৃত হবেন।
অনুষ্ঠানে পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে আয়কর আইনের নানা খুঁটিনাটি তুলে ধরেন আয়কর পরিদর্শক সমরেশ দাস। ২০২৫ সালের আয়কর আইনে আর্থিক লেনদেনের বিবরণী বা ‘এসএফটি’ দাখিলের ক্ষেত্রে কী কী বদল এসেছে, তা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে জোর দেওয়া হয় নতুন ‘ই-ভেরিফিকেশন’ ব্যবস্থার ওপর। আধিকারিকরা জানান, সময়মতো এবং নির্ভুল তথ্য দিলে করদাতাদের বার্ষিক তথ্য বিবরণী বা ‘এআইএস’ অনেক নিখুঁত হবে। এতে সাধারণ মানুষের কর দেওয়ার প্রক্রিয়া অনেক সহজ হবে।
চা-বিরতির পর শুরু হয় মূল প্রশ্নোত্তর পর্ব। সেখানে উপস্থিত প্রতিনিধিরা আয়করের নানা জটিল প্রশ্ন ও সংশয় আধিকারিকদের সামনে উগরে দেন। দফতরের কর্তারা অত্যন্ত সহজ ভাবে সেই সব প্রশ্নের উত্তর দেন এবং সাধারণের বোঝার মতো করে নিয়মগুলি ব্যাখ্যা করেন। দুপুর আড়াইটায় এই কর্মসূচি শেষ হয়। উপস্থিত সকলেই আয়কর দফতরের এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, এই ধরনের প্রচার সাধারণ মানুষকে করভীতি কাটাতে সাহায্য করবে।
