ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আর শেয়ার বাজারের টালমাটাল পরিস্থিতি। এই আবহে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে লগ্নিকারীদের নজরে ফের উজ্জ্বল হলুদ ধাতু। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ভারতীয় পরিবারগুলির কাছে প্রশ্ন একটাই— সোনা কিনবেন ঠিকই, কিন্তু কোন পথে? সাবেকি ভৌত সোনা নাকি আধুনিক গোল্ড ইটিএফ (Gold ETF)?
ভারতে সোনা কেনা শুধু বিনিয়োগ নয়, এক সামাজিক পরম্পরা। গয়না পরা বা উপহার দেওয়ার যে মানসিক তৃপ্তি, তা ভৌত সোনা ছাড়া সম্ভব নয়। কিন্তু নির্ভেজাল লগ্নির নিরিখে এর বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। গয়না তৈরির চড়া মজুরি, বিশুদ্ধতা নিয়ে ভয় এবং চুরির ঝুঁকি এর প্রকৃত রিটার্ন কমিয়ে দেয়। লকার ভাড়া বা বিমা খরচও লগ্নিকারীর পকেটে টান ফেলে।
ভৌত সোনা বা গয়না বিক্রির সময় প্রায়শই বাজার দরের চেয়ে কম দাম মেলে। কেনার সময় দেওয়া মেকিং চার্জ বিক্রির সময় সম্পূর্ণ লোকসান। অথচ গোল্ড ইটিএফ-এ এই সমস্যা নেই। এটি একটি ইলেকট্রনিক বিনিয়োগ মাধ্যম, যা দেশীয় সোনার দামে ওঠানামা করে। এতে মজুরি খরচ নেই। আর বিশুদ্ধতা নিয়েও কোনও সংশয়ের জায়গা নেই। স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ারের মতো এটি যে কোনও সময় বিক্রি করে টাকা হাতে পাওয়া যায়।
অনেকে মনে করেন আসল সোনা বেশি লাভ দেয়। বাস্তবে দুটোরই মূল ভিত্তি সোনার দাম। বরং অতিরিক্ত খরচ না থাকায় ইটিএফ-এ লাভের হার কিছুটা বেশি হতে পারে। ২০২৬ সালের পরিবর্তিত কর কাঠামোয় এখন ভৌত সোনা ও ইটিএফ— দুটির ক্ষেত্রেই নিয়ম প্রায় এক। ফলে করের বদলে এখন সুবিধার নিরিখে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়েছে।
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
পারিবারিক প্রয়োজন বা অনুষ্ঠানের জন্য ভৌত সোনাই সেরা। তবে নিছক মুনাফা আর পোর্টফোলিও ভারসাম্য রক্ষার জন্য গোল্ড ইটিএফ অনেক বেশি স্বচ্ছ ও আধুনিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, মোট সম্পত্তির ৫ থেকে ১০ শতাংশের বেশি সোনায় রাখা উচিত নয়। কারণ সোনা সম্পদ বৃদ্ধির চেয়েও সম্পদ রক্ষার শ্রেষ্ঠ বর্ম।
